দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। সামনেই লোকসভা ভোট। আর এর ঠিক আগেই এক বড় মাস্টারস্ট্রোক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ, সোমবার ১১ মার্চ দেশজুড়ে কার্যকর হল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ। ২০১৯ সালে এই আইন পাশ হলেও এতদিন পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। তবে এবার তা হল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কিছুদিন আগেই জানিয়েছিলেন যে লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেশে সিএএ কার্যকর হবে। সেটাই হল। এদিন সিএএ কার্যকর হবে, তা ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সরকারি ওয়েবসাইটে সিএএ কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ৬টি পয়েন্টের মাধ্যমে জানানো হয়েছে সিএএ আসলে কী, কেন আইন আনা হয়েছে, কেন এই আইন কার্যকর করতে দেরি হল।
কী কী বলে হল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিবৃতিতে?
ভারতের ৩ প্রতিবেশী দেশ থেকে ধর্মীয় কারণে নির্যাতিত হয়ে যারা ভারতে এসেছেন ও যে উদ্বাস্তুরা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের ভারতীয় নাগরিকত্বের অধিকার দেওয়ার আইন হল নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন, ২০১৯।
- এই ৩ দেশ হল আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ।
- নাগরিকত্ব দেওয়া হবে এই তিন দেশ থেকে আসা ৬ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের। এই ছয় সম্প্রদায় হল – হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান।
কী কি প্রধান বিষয় রয়েছে এই বিলে?
- পুনর্বাসন এবং নাগরিকত্বের আইনি বাধা দূর করে
- কয়েক দশক ধরে নির্যাতিত উদ্বাস্তুদের একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবন প্রদান করে
- নাগরিকত্বের অধিকারের মাধ্যমে তাদের সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয় রক্ষা হবে
- একই সঙ্গে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, অবাধ চলাচল, সম্পত্তি কেনার মতো অধিকার পাবে
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন যে সমস্ত ভুল রয়েছে, সেগুলি হল-
- এটি নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন, সিএএ-র মাধ্যমে কোনও পরিস্থিতিতেই কোনও ধর্মের ভারতীয় নাগরিকই নাগরিকত্ব হারাবেন না।
- এই আইন শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা বছরের পর বছর ধরে উৎপীড়ন সহ্য করেছেন। যাদের বিশ্বে ভারত ছাড়া আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই তাদের জন্যই এই আইন।
কী কী জানানো হয়েছে এই আইন নিয়ে?
- ভারতের সংবিধান ধর্মীয় কারণে উদ্বাস্তুদের মৌলিক অধিকার দেওয়ার অধিকার দিয়েছে। এর জেরে এটা বোঝা গিয়েছে যে এ ধরনের উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেওয়া যায়।
- কোভিড মহামারীর কারণে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর করতে দেরি হয়েছে।
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানাল, “আমরা আমাদের ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ইশতেহারে বলেছিলাম, আমরা প্রতিবেশী দেশগুলিতে নির্যাতিত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কার্যকর করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”।





