নানান সময় আমাদের সঙ্গে এমন কিছু কিছু ঘটনা ঘটে, যা আমরা বিশ্বাস করি না বা বলা ভালো, আমরা বিশ্বাস করতে চাই না। এমন নানান জায়গায় নানান রহস্য লুকিয়ে রয়েছে যা শুনলে আমাদের গায়ে কাঁটা দেয়। ধরুন আপনি কোনও একটা জায়গায় যাচ্ছেন, হঠাৎ লক্ষ্য করলেন আপনার মোবাইলটা সুইচ অফ হয়ে গেল। আর যখন মোবাইল অন করলেন দেখলেন সময় দেখাচ্ছে বর্তমান সময়ের দেড়-দু’বছর পরের। বা এমন হল যে রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে আপনার গাড়ির গতি একবার বেড়ে যাচ্ছে আবার একবার কমে যাচ্ছে। আর আপনি গাড়ি কন্ট্রোল করতে পারছেন না, তাহলে? গা শিউড়ে উঠবে তো?
এমনই অদ্ভুত সব ঘটনার মুখে পড়েছেন বেশ কিছু মানুষ। রাঁচি-টাটা হাইওয়ের উপর অবস্থিত তৈমারা ঘাঁটিতে এমনই সব ঘটনা ঘটে বলে জানা যাচ্ছে। না এটা কোনও গল্পকথা নয়, এমন নানান ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন বহু মানুষ। অনেকের কথায়, এই বিশেষ জায়গাটি দিয়ে যাওয়ার সময় কখনও তাদের গাড়ির গতি পরিবর্তন হয়েছে। গাড়ির স্পিডমিটারে দেখাচ্ছে এক গতি অথচ গাড়ি চলছে অন্য গতিতে।
এখানেই শেষ নয়, কখনও কখনও এমনও হয়েছে যে গাড়ির ক্লাচ প্লেট বসে গিয়েছে। কখনও আচমকাই গাড়ি থেমে গিয়েছে। আবার কিছুক্ষণ পর নিজের থেকে চালু হয়েছে গাড়ি। নানান মানুষ এমন নানান ধরণের অভিজ্ঞতার সাক্ষী থেকেছেন বিশেষ এই জায়গায়। ওই বিশেষ জায়গায় কী চৌম্বকক্ষেত্র রয়েছে যা গাড়ি ও অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক সিস্টেমকে আকর্ষিত করে, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? সে বিষয়ে এখনও কিছুই জানা যায়নি।
রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগর্ভ বিভাগের অধ্যাপক ডঃ নীতিশ প্রিয়দর্শী বলেন যে তিনিও এই সম্পর্কে অনেক কথাই শুনেছেন। তিনি জানান যে তাঁর এক বন্ধু রাঁচি-টাটা হাইওয়ের বুন্দু রোডে যখন ছিলেন সেই সময় একটি ফোন আসে তাঁর কাছে। গাড়ি চালানোর কারণে তিনি ফোনটি ধরতে পারেন নি। এই ঘটনাটি ঘটে ১১ই জানুয়ারি ২০২২ সালে। কিন্তু পরে যখন তিনি ফোনটি দেখেন, তিনি দেখতে পান ওই বিশেষ জায়গায় থাকাকালীন যে ফোনটি এসেছিল তাঁর কাছে, সেই ফোনের সময় দেখাচ্ছে ২৭শে আগস্ট ২০২৩ সালের। অর্থাৎ সময় পিছিয়ে গিয়েছে প্রায় দেড় বছর।
ডঃ প্রিয়দর্শী এও জানান যে এই জায়গা দিয়ে যাওয়ার সময় স্ট্রীট লাইট নাকি কাঁপতে থাকে। গাড়ির গতি বেশি না হওয়া সত্ত্বেও এমনটা ঘটে। তাঁর কথায়, এই জায়গায় হয়ত কোনও চুম্বকীয় বিকিরণ ঘটে যে কারণে এমন ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। আর তা না হলে সময়-কালের কোনও ঘটনা ঘটতে পারে এই জায়গায়।
ডঃ প্রিয়দর্শীর কথায়, অনেক সময় এমন হয় যে কোনও নতুন জায়গাতে গেলেও আমাদের মনে হয় যে এই জায়গাটি আমরা আগেও দেখেছি। আবার কখনও কোনও অপরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হলেও আমাদের মনে হয় যে সেই মানুষটিকে আমরা আগের থেকেই চিনি। কাল ও সময়ের এই ব্যাখ্যা এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ডঃ প্রিয়দর্শীর কথায়, তৈমারা ঘাঁটিতেও এমনই কোনও ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তিনি পরামর্শ দেন যে ওই বিশেষ জায়গা দিয়ে যাওয়ার সময় যাত্রীরা যেন সেই সময় ফোনে আসা তারিখ ও সময় নোট করে রাখেন। আর পরবর্তীতে সেই একই তারিখ ও সময়ে কী আদৌ ঘটে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করেন।





