বাংলার নানান স্কুল নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। কোনও স্কুলে শিক্ষক আছে তো পড়ুয়া নেই, কোথাও আবার শিক্ষকের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে স্কুল। বাংলার সরকারি স্কুলের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। রীতিমতো ধুঁকছে স্কুলগুলি। কিন্তু সেদিকে খেয়ালই নেই স্কুল শিক্ষা দফতরের। এবার ফের তেমনই এক স্কুলের সন্ধান মিলল যাকে স্কুল কম, মদের ঠেক বেশি বলা যায়।
পুরুলিয়ার জয়পুর থানার ডিমডিহা গ্রাম। সেই গ্রামেরই এক স্কুল এখন মদের ঠেকে পরিণত হয়েছে। ক্লাসরুম রয়েছে, দেওয়ালে ঝোলানো ব্ল্যাকবোর্ডও রয়েছে। কিন্তু যা নেই তা হল পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকা। বদলে স্কুলে চষে বেড়াচ্ছে গরু-ছাগল। স্কুলের চারিদিকে এখন পড়ে মদের বোতল, গ্লাস। স্কুল এখন মোচ্ছবের জায়গা।
ডিমডিহা গ্রামের মেয়েরা শিক্ষিত হবে, এই ভেবেই ২০১৩ সালে গ্রামের তিন সহৃদয় ব্যক্তি ৫০ ডেসিম্যাল জমি দিয়েছিলেন। ২০১৬-১০১৭ সালে ওই জমিতে ১৬ লক্ষ টাকা খরচ করে স্কুল ভবন নির্মাণ করা হয়। স্কুলের নাম দেওয়া হয়েছিল ডিমডিহা গার্লস জুনিয়র হাইস্কুল। ২০২১-২২ সালে আবার আরও ৫ লক্ষ টাকা খরচ করে স্কুলে বসানো হয় টয়লেট ও ডিপ টিউবওয়েল। কিন্তু কোথায় কী! স্কুল আর চলছে কোথায়!
গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে স্কুলের জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল বটে। কিন্তু তিনি কোনওদিন স্কুলে পা রাখেন নি। ফলে স্কুলও আর চলে না। শিক্ষক-শিক্ষিকাই যদি না থাকে তাহলে মেয়েরা স্কুলে এসে আর কীই বা করবে! ফলে স্কুলবাড়ি চলে যায় স্থানীয় দুষ্কৃতীদের হাতে। এখন সন্ধ্যে নামলেই সেই স্কুলে বসে মদের আসর।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এখন এই স্কুলের ইতিউতি গরু-ছাগলের বাস। আর অন্ধকার নামলেই তা হয়ে যায় মদের ঠেক। স্কুলের প্রত্যেক ঘরেই বসে মদের আসর। দিকে দিকে ছড়িয়ে মদের বোতল, গ্লাস। নানান এলাকা থেকে নাকি নানান যুবক মদের নেশায় এই স্কুলে আসে রাতেরবেলা। আর যাদের জন্য এই স্কুল তৈরি হয়েছিল, সেই মেয়েরা গ্রাম থেকে বহুদূরের স্কুলে পড়াশোনা করতে যায়।
জানা যাচ্ছে, এই স্কুল সম্পর্কে কোনও তথ্য নাকি জেলা স্কুল শিক্ষা দফতরের কাছে নেই। এই বিষয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক মহুয়া বসাক বলেন, “আমি গত কয়েকদিন আগে দায়িত্ব নিয়েছি। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। পরে জানাব”।





