তীব্র দাবদাহে জ্বলছে বাংলা, গরমে খুদে পড়ুয়াদের পেট ঠান্ডা রাখতে নতুন উদ্যোগ স্কুলগুলির, মিড ডে মিলে খাওয়ানো হচ্ছে পান্তাভাত

দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে চলছে তাপপ্রবাহ। বঙ্গের প্রত্যেকটি জেলায় জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি হয়েছে। জেলার তাপমাত্রা পৌঁছেছে প্রায় ৪৫ ডিগ্রিতে। এদিকে কলকাতার তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন তীব্র দাবদাহে স্কুলগুলির তরফে পরিবর্তন করা হয়েছে মিড ডে মিলের (Mid day Meal) খাবার। কোথাও ব্যবস্থা করা হয়েছিল টক ডালের আবার কোথাও আমের চাটনি। তীব্র তাপমাত্রা যেন ছাত্র-ছাত্রীদের গায়ে না লাগে, তার সবরকম ব্যবস্থা করতে চাইছে স্কুলগুলি। এমনকি পেট ঠান্ডা করার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

একেবারে পান্তা ভাত তো খাওয়ানো যায়না। তাই মিড ডে মিলের (Mid day Meal) মেনুতে দীর্ঘক্ষণ জলে ভেজানো ভাত বা ঠান্ডা ভাত খাওয়ানো হয়েছে। জল ঢালা ভাতের সঙ্গে ছিল আলু মাখা, ডিমের ভুজিয়া, কাঁচা পেঁয়াজ আর গন্ধরাজ লেবু। আবার ভাতের ওপর গন্ধরাজ লেবুর গাছের পাতা দেওয়া হয়েছিল। এই মিডডে মিলের খাবার খাওয়ানো হয়েছে হুগলির জিরাট কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ে। শনিবার ওই স্কুলে এমনই মিড-ডে মিল ছিল। প্রবল গরমে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পেট ঠান্ডা রাখার দাওয়াই ছিল মিডডে মিলের জল ঢালা ভাত। বৈশাখ মাস পড়তেই তীব্র দাবদাহে পুড়ছে বাংলা। তার মাঝে মিডডে মিলের এই খাবারে খুশী ছাত্রছাত্রীরা।

বাংলা সাহিত্যে অনেকভাবেই জল ঢালা ভাত বা পান্তা ভাতের কথা উঠে এসেছে বহু সাহিত্যিকের রচনায়। এমনকি দেবতাকে পান্তা ভাত নিবেদনের প্রথা রয়েছে। গরমে সহজপাচ্য ও কম খরচে খাবারের কথায় পান্তা ভাতের গুণকীর্তন অতুলনীয়। এখনো গ্রামে গঞ্জের অনেক বাড়িতেই পান্তা ভাতের চল রয়েছে। আবার শ্রমিক কৃষকেরা তীব্র গরমে তাদের কাজ করার ফাঁকে খেয়ে নেন পান্তা। এমনকি এই পান্তা উঠে এসেছে রেঁস্তোরাতে। বিশ্ব জগতে নাম করেছে এই পান্তা। ‌ তবে স্কুলের মিড ডে মিলে পান্তা বেশ হইচই ফেলেছে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে। ‌ মিড ডে মিলে (Mid day Meal) পান্তা খেয়ে তারা বেশ খুশি। ‌

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কথায়, এদিন সকাল সাড়ে নটায় ভাত রান্না করা হয় তারপরই সেই ভাত জল ঢেলে ভিজিয়ে রাখা হয়। জলের উপর ছড়িয়ে দেওয়া হয় লেবু পাতা। বেলা দেড়টায় মিড ডে মিলে (Mid day Meal) সেই খাবার পরিবেশন করা হয়। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল শরিফ শেখ জানান, গরম ভাতের ও ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। তবে বেশিরভাগ পড়ুয়া এই জল ঢালা ভাত বেছে নিয়েছে।

ছাত্রছাত্রীদের মিড ডে মিলে (Mid day Meal) পান্তা ভাত খেতে দেখে শিক্ষকেরা শুনিয়েছেন বাঙালির সংস্কৃতিতে পান্তার উপস্থিতির কথা। জানিয়েছেন দুঃসহ গরমে পান্তার উপকারিতার কথাও। খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ গরম ভাতের তুলনায় পান্তায় আয়রনের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। পান্তাতে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়ামের মাত্রাও অনেক বেশি।‌ গরমের দিনে পান্তা শরীরকে ঠান্ডা রাখে। শরীরে জলের অভাব মেটায়‌।

সোমবার থেকে এক মাসেরও বেশি গরমের ছুটি। তার আগে মিড ডে মিলে (Mid day Meal) পান্তা খেয়ে খুশি ছাত্র-ছাত্রীরা। অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা আবার বলেছেন, বাড়িতে মাকে বলবেন পান্তা করে দিতে। মিড-ডে মিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বিধানচন্দ্র মজুমদার বলেন, “আমরা ধারাবাহিক ভাবে মিড-ডে মিলের খাবার নিয়ে ভাবি। গরমে শরীর থেকে অনেক জল বেরিয়ে যায়। পান্তা খেলে শরীরে জলের ভারসাম্য ঠিক থাকে। তাই এই আয়োজন। পরবর্তী সময়েও এই খাবার তালিকায় থাকতেই পারে।”

বিদ্যালয়ের সভাপতি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “পান্তাভাত সংশ্লিষ্ট পরিবারের অভাবের সূচক ছিল। এখন পুষ্টিবিদেরা খেতে বলেন। আমরা পড়ুয়াদের শরীরের কথা ভেবেই এই খাবার (Mid day Meal) করেছি। তা খেয়ে ওদের আনন্দ আমাদের খুশি করেছে।” স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে জানা গেছে, এদিন পাঁচশোর বেশি পড়ুয়া পান্তা খেয়েছে।

RELATED Articles