আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনায় গর্জে উঠেছে গোটা দেশ। দিকে দিকে চলছে আন্দোলন-প্রতিবাদ। ক্ষোভে ফুঁসছেন সকলে। এই ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতি চলছে জুনিয়র চিকিৎসকদের। এরই মধ্যে গতকাল একটি খবর মেলে যে আর জি করে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। আর তা নিয়ে চিকিৎসকদের কাজে ফেরার আর্জি জানাচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। এবার এই মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করলেন আর জি করের এমএসভিপি সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত, গতকাল, শুক্রবার ভোরে কোন্নগর বেঙ্গল ফাইন মোড়ের কাছে রাজীব গান্ধী রোডে বছর বাইশের এক যুবককে একটি ডাম্পার চাপা দেয়। দুর্ঘটনায় দুটি পা-ই গুরুতর জখম হয় ওই যুবকের। তড়িঘড়ি তাঁকে শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে যুবককে পাঠানো হয় আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে। তবে অভিযোগ, সেখানে নাকি প্রায় তিন ঘণ্টা বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকে ওই যুবক। অবশেষে মৃত্যু হয় তাঁর।
এদিকে এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “জুনিয়র ডাক্তারদের দাবী ন্যায্য। আমি তাঁদের আবেদন জানাই, এমনভাবে প্রতিবাদ করুন যাতে জরুরি পরিষেবা ব্যাহত না হয়”। তাঁর এই পোস্টের সমর্থনে আবার তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেতা দেব সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, প্রাণের বিনিময়ে কোনও বিচার চান না তিনি। তিনি লেখেন, “আমিও আইনি ব্যবস্থা সংস্কার চাই। তবে সেটা আর একটা প্রাণের বিনিময়ে নয়। আপনারা একটু ভেবে দেখুন”।
Even I want justice for a life lost.
Even I want reform in our legal system.
But not at the cost of another life.
Please give this a thought.🙏🏻#CapitalPunishmentforallrapists#MedicalAssitanceforallpatients 🙏🏻 https://t.co/cuq6zvEKno— Dev (@idevadhikari) September 6, 2024
এই ঘটনায় এবার আসল সত্যি জানালেন আর জি করের নতুন এমএসভিপি সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, এই মৃত্যুর সঙ্গে আর জি করে চলা চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি স্পষ্ট জানান, গতকাল, শুক্রবার প্রায় সকাল সাড়ে ৮টার সময় ওই যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। এরপর থেকেই তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। সিনিয়র চিকিৎসকরা ছিলেন সেই সময়। সিটি স্ক্যান করানোর সময় সেই শক না নিতে পেরে মৃত্যু হয় যুবকের।
এমএসভিপি জানান, বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর যে খবর রটছে, তা মিথ্যে। তিনি এও জানান, তাঁর কাছে যুবকের চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত নথি রয়েছে। তিনি চাইলে তা দেখাতে পারেন। যদি এই ঘটনা নিয়ে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়, তাহলে তিনি সেই নথি অবশ্যই পেশ করবেন।
অন্যদিকে, রোগী মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে অভিযোগ উঠতেই সাংবাদিক বৈঠক করেন চিকিৎসকরা। তাদের কথায়, “কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালের বাইরে মে আই হেল্প কিয়স্ক তৈরি করা হয়েছে। পুরসভার এই কিয়স্ক থেকে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বলা হচ্ছে। যা কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে চিকিৎসকদের। বিভ্রান্ত করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রোগীদের মধ্যে মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। আন্দোলন ভেঙে দেওয়ার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা হচ্ছে”।





