কোনও কারণ ছাড়াই বারবার স্বামী-শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া আসলে ‘মানসিক নিষ্ঠুরতা’, কড়া পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

একসাথে হাঁড়ি কড়া থাকলে ঠোকাঠুকি লাগবেই। মা-ঠাকুমারা বলতেন একসাথে থাকতে গেলে ছোটখাটো ঝগড়া ঝামেলা তো হবেই। সময় পাল্টেছে এখন কার মা ঠাকুমারা আর এসব বলে মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে বন্দি করে রাখেন না। ‌ভুলকে ভুল ঠিককে ঠিক বলতে শিখিয়েছেন। ‌তবে এসবে অশান্তি কথা কাটাকাটি বাড়তে শুরু করেছে। অনেকে স্ত্রী আবার অশান্তি, কথা কাটাকাটি হলেই শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান। ‌বউয়ের এমন গোঁশা করে বারবার শ্বশুর বাড়ি চলে যাওয়া মোটেই পছন্দ করেন না স্বামী।‌ বউকে বুঝিয়েও তেমন কোন লাভ হয়নি। 

বারবার স্ত্রীর শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়াতে বিরক্ত হয়ে আদালতের দারস্থ হন স্বামী। আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন স্বামী। সেই ডিভোর্সের আবেদন মঞ্জুর করেছে দিল্লি হাইকোর্ট (High Court)। এই এই আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, কোনও বিশেষ কারণ ছাড়া স্বামীর বাড়ি ছেড়ে স্ত্রীর বারবার অন্য কোথাও চলে যাওয়া মানসিক নিষ্ঠুরতার সামিল। কারন ছাড়াই স্বামীর বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া, শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় না রাখা ও স্বামীর সঙ্গে বাজে ব্যবহারের অভিযোগ ছিল ওই স্ত্রীয়ের বিরুদ্ধে। ‌ সেই আবেদনেই বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি দিয়েছে আদালত।

জানা গেছে ১৯৯২ সালে ওই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল। ২০১৭ সালে আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জানান স্বামী। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে মামলা চলার পর পরিবার আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। এরপর দিল্লি হাইকোর্টের (High Court) দ্বারস্থ হন ওই স্বামী।

ওই স্বামী অভিযোগে জানিয়েছিলেন, তার স্ত্রী কোন কারণ ছাড়াই ছবার তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তার স্ত্রী নিজেকে বিধবা বলেও দাবী করেছেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহিলার আইনজীবী দাবি করেন, ওই মহিলাকে অপমানের শিকার হতে হত শশুরবাড়িতে।

দুপক্ষের বক্তব্য শুনে দিল্লি হাইকোর্টের (High Court) বিচারপতির সুরেশ কুমার কাইত ও বিচারপতি নীনা বনশল কৃষ্ণার ডিভিশন বেঞ্চ দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি দেন। বিচারপতি বলেন, ‘স্বামীর বাড়ি ছেড়ে ঘন ঘন অন্যত্র চলে যাওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। এই ধরনের আচরণ স্বামীর সঙ্গে নিষ্ঠুরতার সামিল।’

RELATED Articles