বিশ্বের নানা প্রান্তে কাজের খোঁজে বা ভালো জীবনের আশায় মানুষ দেশ ছাড়ে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যখন সেই যাত্রা বদনাম, অপমান আর দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, গোটা জাতির জন্যই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক কালে পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনই এক বাস্তবতা সামনে এসেছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
গত কয়েক মাস ধরেই উপসাগরীয় দেশগুলিতে পাকিস্তানি নাগরিকদের নিয়ে কড়া নজরদারি চলছিল। অভিযোগ ছিল, অনেকেই কাজ বা ধর্মীয় সফরের নামে বিদেশে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি কিংবা বেআইনি কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করে। এরপর ধীরে ধীরে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটে, বিশেষ করে ওমরাহ ভিসার অপব্যবহার রুখতে।
এই প্রেক্ষাপটেই সামনে আসে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সৌদি আরব থেকে প্রায় ৫৬ হাজার পাকিস্তানি নাগরিককে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইসলামাবাদের জাতীয় পরিষদে এক সংসদীয় প্যানেলের রিপোর্টে এই সংখ্যা প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়। জানা যায়, ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া কিছু চক্র পরিকল্পিত ভাবে বিদেশে লোক পাঠাচ্ছিল, যার জেরে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (FIA) এই পরিস্থিতিকে “জাতীয় লজ্জা” বলেই কার্যত স্বীকার করেছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই অবৈধ অভিবাসন ও ভিখারি সিন্ডিকেট রুখতে বিমানবন্দরে ৬৬,১৫৪ জন যাত্রীকে বিদেশযাত্রা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। FIA ডিরেক্টর রিফাত মুখতার স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই নেটওয়ার্কগুলি শুধু উপসাগরীয় দেশেই সীমাবদ্ধ নয়—ইউরোপ, আফ্রিকা এমনকি কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো দেশেও পর্যটন ভিসার অপব্যবহারের ঘটনা ধরা পড়েছে।
আরও পড়ুনঃ Mamata banerjee : “এজেন্সি দিয়ে ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত করা হচ্ছে?”— জিএসটি ও বদনামের রাজনীতির বিরুদ্ধে শিল্পমঞ্চে মমতার কড়া বার্তা!
পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ। দুবাই থেকে প্রায় ৬,০০০ জন, আজারবাইজান থেকে ২,৫০০ জন পাকিস্তানি নাগরিককে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর সৌদি আরব থেকে আসা ৫৬ হাজার প্রত্যর্পণের ঘটনা যেন সেই ছবিকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রশ্ন উঠছে—এই পরিস্থিতির দায় কার? অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব নাকি প্রশাসনিক ব্যর্থতা? যা-ই হোক, একটাই সত্য সামনে এসেছে—বিদেশে সম্মান হারানোর এই মূল্য যে শেষ পর্যন্ত গোটা দেশকেই চুকোতে হচ্ছে।






