সম্প্রতি এক মার্কিন ব্যক্তির ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (Viral) হয়েছে। এই ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওতে তিনি ভারতীয়দের ‘আরশোলা’, ‘তৃতীয় বিশ্বের পরজীবী’ এবং ‘মুখে গোবর মাখে’ বলে অবমাননা করেন। তাঁর বক্তব্যে আরও বলা হয়, ভারতীয়রা সাদা চামড়ার মানুষের স্ত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করে এবং উন্নত জীবনের লোভে সম্পর্ক তৈরি করে। তিনি ভারতীয়দের আদর্শহীন এবং মহিলাদের গণধর্ষণে লিপ্ত বলে উল্লেখ করেন।
ভিডিওটি মার্কিন টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে একটি গণধর্ষণের ঘটনায় ভারতীয়দের জড়িত থাকার বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।
ভিডিওটি শেয়ার করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও প্রাক্তন সাংবাদিক সাগরিকা ঘোষ। তিনি এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডলে এটি পোস্ট করে ভারতীয়দের প্রতি এমন বিদ্বেষমূলক আচরণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাগরিকা জানান, এ ধরনের মন্তব্য আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয়দের প্রতি ক্রমবর্ধমান বর্ণবিদ্বেষের উদাহরণ। তবে ভিডিওতে উল্লেখিত ঘটনা ঠিক কোথাকার বা কবে ঘটেছে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য তিনি দেননি।
You’re welcome. pic.twitter.com/pAFfEwRrcj
— Leonarda Jonie (@leonardaisfunE) December 27, 2024
এই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে লিওনার্দা জোনি নামে এক কমেডিয়ান এবং অভিনেত্রীকে। ভারত বিদ্বেষে তাঁর নাম নতুন নয়। এর আগেও তিনি ভারতীয় পুরুষদের অপমান করতে মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। সেই ভিডিও তিনি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন। এই ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে তিনি নানা সময়ে সমালোচিত হয়েছেন।
বিগত সময়ে আমেরিকায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ভিডিও সেই প্রবণতারই আরেকটি উদাহরণ। প্রযুক্তিতে ভারতীয়দের দক্ষতার কারণে আমেরিকার উন্নতি হয়েছে, এমন বক্তব্যকেও ওই মার্কিন ব্যক্তি ভুল বলে দাবি করেন। এসব মন্তব্যে বোঝা যায়, আমেরিকার একটি অংশ ভারতীয়দের বিরুদ্ধে পূর্ব ধারণা পোষণ করে চলেছে।
আরও পড়ুনঃ বর্ষবরণের রাতে শীতের অপেক্ষার অবসান! নতুন বছরে আবহাওয়ার বদল! জানুন বিস্তারিত আপডেট
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের এই ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সাগরিকা ঘোষের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই বিষয়ে সোচ্চার হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও বাড়ছে। তবে, সমাজে এই ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব বন্ধ করতে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।





