যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়(Jadavpur University)যা বরাবরই ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল, সেখানে আবারও উত্তাল। গত কয়েকদিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে চলছে বিক্ষোভ। ছাত্রদের একাংশ মনে করছে, প্রশাসনের গাফিলতিতেই এতদিন নির্বাচন আটকে ছিল। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ঘিরে হওয়া বিক্ষোভের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হল।
সোমবার সকালে ছাত্রদের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। বৈঠকের আগেই উত্তেজনা চরমে ওঠে, যখন প্রাক্তন সহউপাচার্য ওমপ্রকাশ মিশ্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। তাঁকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন ছাত্ররা। হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। এমনকি বাধ্য হয়ে ওমপ্রকাশকে হাতজোড় করে বলতে হয়, “কাইন্ডলি আমাকে যেতে দিন। আমার যাওয়াটা দরকার।”
ছাত্রদের দাবি, প্রশাসন বারবার কথা দিয়ে কথা রাখছে না। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করার কথা বলছে, অন্যদিকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা চলছে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ঘিরে হওয়া বিক্ষোভের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, কিন্তু ছাত্রদের ক্ষোভ মেটানোর চেষ্টা খুব একটা চোখে পড়ছে না।
আরও পড়ুনঃ অসভ্য, অভদ্র, ইতর”! সৌগত রায়ের মন্তব্য ঘিরে তৃণমূলেই বিতর্ক, কটাক্ষে তোপ দাগলেন মদন মিত্র
সোমবারের বৈঠক শুরু হওয়ার কথা ছিল সকাল ১১টায়, যেখানে ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি, সহউপাচার্য ও বিভিন্ন বিভাগের ডিনরা উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু ওমপ্রকাশ মিশ্রের প্রবেশকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বৈঠক আদৌ স্বাভাবিকভাবে হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এদিকে, ওমপ্রকাশ তাঁর ঘরে পৌঁছালেও ছাত্ররা ঘরের বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে বসে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্যাম্পাসের বাইরে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
এখন দেখার, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রদের দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়। শিক্ষামন্ত্রীর পর এবার ওমপ্রকাশ মিশ্রকে নিয়েও বিতর্ক শুরু হওয়ায় ছাত্রদের আন্দোলন আরও তীব্র হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রশাসনও যে নড়েচড়ে বসেছে, তার প্রমাণ মিলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাড়তি নিরাপত্তা ও দফায় দফায় বৈঠকের মাধ্যমে।





