ভারতে নিষিদ্ধ অ্যাপ টিকটক কী কিনতে চলেছে মুকেশ আম্বানির সংস্থা? এ নিয়ে নাকি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ আলোচনাও শুরু করে দিয়েছে টিকটক এর মালিক সংস্থা বাইটড্যান্সের সঙ্গে। এমনটাই দাবি জানাচ্ছে প্রযুক্তি সম্পর্কিত একটি ওয়েবসাইট। সেখানে এক সূত্র অনুযায়ী বলা হয়েছে, জুলাই মাসে দুই সংস্থার মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও কোন চুক্তি এখনও পর্যন্ত হয়নি। এই সংবাদ নিয়ে সংবাদসংস্থা রয়টার্স টিকটক, বাইটড্যান্স এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিন সংস্থাই মুখ খোলেনি।
ভারতের জাতীয় সুরক্ষার খাতিরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে টিকটক। শুধুমাত্র জনপ্রিয় এই অ্যাপটি নয়, এর সাথে আরও ৫৯ টি অ্যাপ ব্লক করা হয়েছে ভারতে; দেশের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে। কেন্দ্রীয় সরকার টিকটক, ইউসি ব্রাউজারের মত ৫৯ টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করার সময় কারণ ধার্য করে যে– এই অ্যাপগুলি ভারতের সার্বভৌমত্ব, সংহতি, প্রতিরক্ষা, দেশের নিরাপত্তা ও শৃংখলার ক্ষেত্রে বিপদজনক বলে মনে করা হচ্ছে। সেই কারণেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে।
যদিও এই নিষেধাজ্ঞা জারির পরে টিকটক এর মালিক সংস্থা বাইটড্যান্সের পক্ষে দাবি করা হয়, তারা তথ্য সংক্রান্ত গোপনীয়তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত ভারতীয় আইন মেনে চলে। তারা আরোও দাবি করে, ভারতের কোন গ্রাহকের কোন তথ্যই তারা চীন কিংবা অন্য কোন বিদেশি সরকারকে দেয় না। যদিও নয়াদিল্লি এমন দাবি \কে বিশেষ আমল দেয়নি।
ভারতের প্রায় পরপরেই আমেরিকাও ছোট ভিডিও তোলার প্লাটফর্ম টিকটক কে তাদের দেশেও নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টিকটক অ্যাপ সংস্থার সঙ্গে সব রকম আর্থিক লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশও দেন। বর্তমানে শোনা যাচ্ছে, মাইক্রোসফট এর সিইও সত্য নাদেল্লা; টিকটকের মার্কিন পরিচালনার ভার মাইক্রোসফ্ট নিতে চায় বলে ট্রাম্প প্রশাসনকে জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন টিকটকের মার্কিন পরিচালনার ভার মাইক্রোসফটকে হস্তান্তর করার নির্দেশ বাইটড্যান্সকে দিতে পারে এমনটাই মনে করা যাচ্ছে।
এরপর ভারতেও আবার টিকটক বিক্রি নিয়ে জল্পনা তৈরি হল। উল্লেখ্য, দেশে টিকটক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। ভারতে টিকটক সংস্থার কর্মী সংখ্যাও প্রায় ২ হাজার। ইতিমধ্যেই সংস্থার পক্ষ থেকে কর্মীদের চাকরি নিশ্চিত বলে আশ্বস্ত করেছে বাইটড্যান্স। গত ১ জুলাই কোম্পানির ওয়েব সাইটে কর্মীদের উদ্দেশ্যে এই বার্তা দেন টিকটকের সিইও ও বাইটড্যান্সের চিফ অপারেশনস অফিসার কেভিন মায়ের। তিনি জানান, “টিকটকে আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইন্টারনেটের দুনিয়ায় এক গণতন্ত্র নিয়ে আসা। তাতে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি। আমরা এই মুহূর্তে অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলছি। ভারতীয় আইন অনুযায়ী ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষিত ও গোপন রাখা আমাদের প্রধান গুরুত্ব ছিল। আগামী দিনেও তাই থাকবে।” রিলায়েন্সের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তবে কি সেই উদ্যোগ নিতে চলেছে বাইটড্যান্স! আবারও কি টিকটকে মজতে চলেছে ভারত?
প্রতিবেদনটি লিখেছেন – অন্তরা ঘোষ





