বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের ছাতনা ব্লকের শুশুনিয়া পাহাড় সংলগ্ন গ্রাম ভরতপুর। এই ভরতপুর এই বসবাস করেন পট চিত্রশিল্পীরা (pot painters)। পট চিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাদের দীর্ঘ ইতিহাস। পটচিত্র অঙ্কনে তারা সিদ্ধহস্ত হলেও এই গ্রামের জীবন জীবিকার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভিন্ন। লোকসভা ভোটের আগে গ্রামের উনিশটি পরিবার তাদের চাওয়া পাওয়া নিয়ে সরব হলেন এদিন। ছাতনা ব্লকে গেলে দেখা যাবে পটচিত্র শিল্পীদের তৈরি মডেল বাড়ি। এই গ্রামে বহু মহিলা পটচিত্র শিল্পী রয়েছে। লোকসভা নির্বাচন আসন্ন। ইতিমধ্যেই প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হয়ে গিয়েছে।
সেখানকার এক মহিলা পটচিত্রশিল্পী (pot painter) গোলাপী চিত্রকর এর কথায়, “ভোটের পর আমাদের ট্রেনিং চাই। আমাদের কাঁচামাল চাই, আমাদের অনেক কাস্টমার আসে, তবে আমাদের বাড়িতে সেটা মজুত থাকে না। সেটা যদি আমাদের সাহায্য করা হয় তবে গেঞ্জি ওড়না কাপড়, গলার সেট এসব বানালে আমাদের অনেক কাস্টমার আসবে”।
তবে জানা গেছে সেখানকার মহিলারা সঠিক সময়ে সরকারি ভাতা পাচ্ছেন। তাদের মুখেই উঠে এসেছে লক্ষ্মীর ভান্ডারের কথা। মহিলা পটচিত্রশিল্পী সুনিতা চিত্রকর (Pot Painter) জানান, “সঠিক সময় লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছেন তারা। আগে ৫০০ টাকা করে পেয়েছেন এখন পাচ্ছেন হাজার টাকা করে। লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা দিয়েই দিন চলে যায় তাদের। আমরা ট্রেনিং চাই ট্রেনিং দিলে আমাদের আরো ভালো হবে।”
তাদের পাঁচ বছরের হিসেবে উঠে এসেছে পানীয় জলের কথাও। তপ্ত গরম বাঁকুড়ায়, ইতিমধ্যেই ৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছুঁয়েছে সেখানে। এই গরমে গ্রামের ভিতরে টাইম কল লাগানোর কথা জানিয়েছেন গোলাপি চিত্রকর (Pot Painter)। তিনি বলেন, “আমাদের গ্রামে টাইম কল নেই, জলের অনেক সমস্যা রয়েছে। ভোটের আগে বা পরে টাইম কল বাড়িতে বাড়িতে দিলে ভালো হয়।”
এই গ্রামে ১৫ থেকে ১৬ জন পুরুষ শিল্পী পাচ্ছেন লোকপ্রসার ভাতা নামক একটি বিশেষ শিল্প-প্রসার ভাতা। প্রতি মাসে হাজার টাকা করে। এই ভাতা শুধুমাত্র পুরুষেরাই পান বলে জানিয়েছেন, “ভরতপুর গ্রামের বাসিন্দা শম্ভুনাথ চিত্রকর (Pot Painter)। তিনি জানান, প্রতি মাসে হাজার টাকা করে লোকপ্রসার ভাতা দেওয়া হয়। আমাদের এখানে খাবার জলের বেশ সমস্যা রয়েছে যদি টাইম কল করে দেওয়া যায় তাহলে খুব ভালো হয়। মাত্র একটা টিউবওয়েল আছে স্কুলে, সেখান থেকেই জল নেওয়া হয়।” লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে এখানে তাদের চাওয়া পাওয়া নিয়ে হিসাব নিকাশ তত বাড়ছে। শহরাঞ্চলের মানুষের চাহিদা থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের চাহিদা আলাদা রকম।





