ভাঙড়ে নিজের এলাকাতেই গো-হারান হারলেন আরাবুল, গণনা শেষ হওয়ার আগেই গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে গেলেন তৃণমূল নেতা

রাজ্যের দোর্দণ্ডপ্রতাপ রাজনৈতিকবিদদের কথা বললে আরাবুল ইসলামের কথা প্রথম সারিতেই আসে। ভাঙড়ের পোলেরহাট ২ নম্বর পঞ্চায়েতের বাসিন্দা তিনি। কিন্তু সেই গ্রাম প্নচায়েতেই হার হয়েছে তৃণমূল নেতার। পোলেরহাট ২ নম্বর পঞ্চায়েতে জিত হল জমি রক্ষা কমিটি ও আইএসএফ জোটের।

এদিন জোটের জয়ের প্রবণতা স্পষ্ট হতেই গণনাকেন্দ্র ছাড়েন আরাবুল ইসলাম। পোলেরহাট ২ নম্বর অঞ্চলে তৃণমূল হারের কথা স্বীকারও করে নেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক। পোলেরহাট ২ নম্বর পঞ্চায়েতে এবার আসন সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ২৪। সব আসনেই এবার প্রার্থী দিয়েছিল জমি রক্ষা কমিটি এবং আইএসএফ সমর্থিত নির্দলরা। জানা গিয়েছে, ২৪ আসনের বেশিরভাগেই জয়ী হয়েছেন নির্দলরা।

হার নিয়ে কী বললেন আরাবুল? 

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে আরাবুল বলেন, “আমি আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছি পোলেরহাট ২ কোনওমতে রক্ষা করা যাবে না। এখানে সাতটি প্রার্থী হেরেছে আমাদের। হতেই পারে। বাকি জায়গায় জিতেছি”।

তিনি আরও বলেন, “ওই এলাকায় আমাদের কর্মীদের উপর লাগাতার অত্যাচার হয়েছে। প্রার্থীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাই জানতাম যে এখানে খারাপ ফল হবে”।

ক’টা আসনে নির্বাচন হয়েছে এই অঞ্চলে? 

পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব থেকে অশান্তির খবর উঠে আসে। ভাঙড় ২ নম্বর ব্লক থেকে একাধিক হিংসার ঘটনা ঘটে। এই ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১৮টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ৮৬টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই জিতেছিল তৃণমূল। আর বাকি যে আসনগুলিতে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে তৃণমূলের সঙ্গে আইএসএফের জোরদার টক্কর লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পোলেরহাট ২ নম্বর পঞ্চায়েতে যে তৃণমূলের হার হবে, তা একপ্রকার আগে থেকেই বোঝা গিয়েছিল। কারণ আরাবুল ও তাঁর ছেলে হাকিমুল নিজেই নিজের এলাকা থেকে প্রার্থী হন নি। তখনই বেশ স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে এই অঞ্চলে জমি রক্ষা কমিটি বেশ ভালো লড়াই দেবে আর শেষ পর্যন্ত হলও তাই।

RELATED Articles