শাসক-বিরোধী সংঘর্ষে উত্তাল জেপিসি! কল্যাণ-সহ ১০ সাংসদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ

ওয়াকফ সংশোধনী বিল (WAQF AMENDMENT BILL) ঘিরে যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) বৈঠকে শাসক-বিরোধী বিতর্কের জেরে তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল থেকে কংগ্রেস, ডিএমকে, এআইএমআইএম থেকে শিবসেনা—বিরোধীদের প্রায় সব শিবির থেকেই সাংসদরা এই বরখাস্তের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। সাংসদদের দাবি, সরকারের পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং সংবিধানবিরোধী কার্যকলাপই এই বিতর্কের মূল কারণ।

শুক্রবার পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জেপিসি বৈঠক শুরু হতেই বিতর্কের সূচনা হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, কমিটির চেয়ারম্যান তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগদম্বিকা পাল কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে কাজ করছেন। এই অভিযোগকে ঘিরেই শুরু হয় তর্কাতর্কি। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, বৈঠকের আলোচনাসূচি পরিকল্পিতভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ ছাড়াও কংগ্রেস, ডিএমকে, এআইএমআইএম, সপা এবং শিবসেনার সাংসদদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা যায়। বিতর্ক চরমে পৌঁছালে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে ১০ বিরোধী সাংসদকে বরখাস্তের প্রস্তাব দেন, যা কমিটির অনুমোদন পায়।

এই প্রসঙ্গে কমিটির চেয়ারম্যান জগদম্বিকা পাল বলেন, বিরোধী সাংসদরা সভার শৃঙ্খলা নষ্ট করছেন এবং তাঁর উদ্দেশ্যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। এমনকি, বৈঠক দু’বার মুলতুবি করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। তিনি দাবি করেন, এই বৈঠকের কাজে বাধা দেওয়া এবং প্রক্রিয়া বানচাল করার চেষ্টাই বিরোধী সাংসদদের মূল উদ্দেশ্য ছিল।

বিরোধী সাংসদদের দাবি, ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে সরকারের পক্ষপাতমূলক আচরণই এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণ। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ২১জানুয়ারির বৈঠকের পর ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি বৈঠকের তারিখ নির্ধারণের জন্য ডিএমকে সাংসদ এ রাজা চিঠি লিখলেও তা অগ্রাহ্য করা হয়। তাছাড়া, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আলোচনাসূচি বদল করা হয়।

আরও পড়ুনঃ রাজনৈতিক উত্তেজনায় নতুন বাঁক! ‘সাংবিধানিকভাবে আমি এখনও প্রধানমন্ত্রী’- দাবি হাসিনার!

বৈঠকের আগে জম্মু-কাশ্মীরের একটি ধর্মীয় সংগঠনের প্রধান এমআর ফারুকের নেতৃত্বে একটি দল বিল নিয়ে তাদের মতামত পেশ করে। এরপর শুরু হয় বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, দিল্লির আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সরকার এই বিল নিয়ে এত তাড়াহুড়ো করছে। তবে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, কমিটির চেয়ারম্যান বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহার করেছেন। এই ঘটনায় রাজনীতির ময়দানে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles