কাঠফাটা গরমে জলকষ্টের ছবি! জলের অভাবে প্রাণ যায় যায় অবস্থা, খেতে হচ্ছে গঙ্গার জল, প্রবল জল সংকট রাজ্যের এই জেলায়

জল নিয়ে অনিশ্চয়তা (water crisis) তৈরি হয়েছে এই গ্রামাঞ্চলে। জল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা তাই বাধ্য হয়েই জল কিনে খেতে হচ্ছে তাদের। যাদের জল কেনার সামর্থ্য নেই তাদের জন্য ভরসা হিসেবে রয়েছে গঙ্গার জল। অনেকেই জলের অভাবে (water crisis) রান্নার কাজও গঙ্গার জল দিয়ে চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এমনই জল কষ্টের ছবি ধরা পড়েছে পূর্ব বর্ধমানে‌‌। এমনিতেই পারদ চলেছে দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায়। তার মধ্যে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নাজেহাল হয়ে পড়ছে মানুষ। এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে ডাক্তারেরা সকলেই জল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এই কাঠফাটা গরমেই ভয়াবহ ছবি উঠে এল পূর্ব বর্ধমানের।

পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর দু নম্বর ব্লকের অন্তর্গত একটি গ্রাম তামাঘাটা। এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষের অবস্থা শোচনীয়। তীব্র গরমে নয় জলের অভাবেই নাজেহাল অবস্থা এই গ্রামে। জল না পেয়ে (water crisis) রীতিমতো হাঁসফাঁস অবস্থা এই গ্রামাঞ্চলের মানুষদের। এমনকি সাইকেল নিয়ে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে জল কিনে আনতে হচ্ছে তাদের। আবার কেউ কেউ নদী থেকেই জল তুলে কাজ চালাচ্ছেন।

অবাক হলেও ঘটনাটি সত্যি। গ্রামের প্রায় প্রত্যেকের বাড়িতেই টাইম কলের লাইন করা রয়েছে। তবে কল থাকলেও জলের দেখা নেই। এই প্রসঙ্গে তামাঘাটা গ্রামের এক মহিলা বলেন, “অনেকদিন ধরেই আমাদের এখানে জল আসছে না জলের জন্যই আমাদের সমস্যা। প্রায় এক মাস ধরে আসছে না জল। জল আসছে না বলে জল কিনে কিনে খেতে হচ্ছে। কি করব বাঁচতে হবে তো! গঙ্গার জলে রান্না করছি ভাত” (water crisis)

তামাঘাটা গ্রামের স্থানীয়দের কথায়, প্রায় এক মাস পরে জল আসছে না (water crisis) এর কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে কোন এক জায়গায় পাইপ ফেটে এই বিপত্তি সৃষ্টি হয়েছে। তবে বাসিন্দাদের অভিযোগ জলের কোন ঠিক নেই কখনো জল পরে আবার কখনও পড়ে না। আবার তামাঘাটা গ্রামের পূর্বপাড়ার বাসিন্দাদের কথায় টাইম কল বসানো হলেও একদিনের জন্য জল আসেনি তাদের কলে। ‌

সেই পাড়ার এক বাসিন্দার কথায়, “আমাদের যে কল লাগিয়ে দিয়ে গেছে সে কল দিয়ে কখনো জল পরেনি। শুধুমাত্র এক জায়গাতেই জল পড়ে গ্রামের লোক সেখানে গিয়ে জল ধরতে পারে। প্রায় কুড়ি দিনের ওপর এই সমস্যার সম্মুখীন আমরা। যেদিন থেকে কল লাগিয়েছে সেদিন থেকেই জল বন্ধ (water crisis)। দু বছরের বেশি কল লাগিয়ে দিয়ে গেছে তবে একদিনের জন্য জল পড়েনি। আমাদের খাবার জল কিনে খেতে হচ্ছে। ‌নেতারা যদি পঞ্চায়েতের কাছে এই কথা না বলে, সাধারণ মানুষ গেলে পঞ্চায়েত আমাদের কথা গ্রাহ্য করবে না”।

তামাঘাটা গ্রামে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে ভ্যানে করে বিক্রি করা হচ্ছে জল। দশ টাকার বিনিময় কুড়ি লিটার জল কিনে প্রাণ ভরাতে হচ্ছে। গ্রাম জুড়ে জলের হাহাকার শুরু হয়েছে। ‌এ প্রসঙ্গে এলাকার বিধায়ক তপন চ্যাটার্জীর কথায়, “মানুষের সচেতন না হলে কিছুই সম্ভব নয়। মানুষ সচেতন না হলে কিছুই করা যাবে না। ছোট ছোট বাচ্চারা আর জল পাবে না। জল কিনে খাওয়ার কথা কখনও ভাবিনি, জলের অভাব (water crisis) দেখা দেওয়ার পর এখন তো ভাবতে হচ্ছে”।

RELATED Articles