“ব্যাটা বিজেপির বাচ্চা। ডাকাত। ক্রিমিনাল।”, ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিতে মেজাজ হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গতকাল নৈহাটির সভায় যাওয়ার পথে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি শুনে মেজাজ হারালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নৈহাটি এবং ভাটপাড়াতে ধরা পরলো একই ছবি। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় যাওয়ার সময় গতকাল হঠাৎই নানান দিক থেকে ভেসে আসে ছেলে-ছোকরাদের ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি। আর তাতেই মেজাজ হারিয়ে গাড়ি থেকে নেমে রীতিমতো তেড়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যামেরাতে ধরা দেয় সেই ছবি।

গতকাল ভাটপাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় যাওয়ার সময় হঠাৎই পাশ থেকে ওঠে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি। তাতেই মেজাজ হারিয়ে গাড়ি থেকে নেমে এসে পুলিশের সঙ্গে রাস্তায় পাইচারি করতে করতে রীতিমতো শাসাতে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ” সব বন্ধ করে দেব। এত বড় সাহস। আমাদের খাবে, আমাদের পড়বে। গুন্ডামি মস্তানি হবে না। বেঁচে আছো আমাদের জন্য। চামড়া গুটিয়ে ছেড়ে দেবে। নাম নিয়ে নাও নাকা চেকিং হবে। তুমি তোমার মতো স্লোগান দাও। এত বড় সাহস। বাংলাকে গুজরাট বানাতে দেব না। বাংলা বাংলা থাকবে। বন্ধ করে দিলে বুঝে যাবে সব”।

তারপর মুখ্যমন্ত্রী সেখান থেকে গাড়িতে ওঠার সময় ফের ভেসে আসে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি। তখন তিনি গাড়ির দরজা থেকেই বলেন যে, “সামনে এসে বল না”। এরপর তিনি গাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলেও চারদিক থেকে ভেসে আসতে থাকে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি, ফের মেজাজ হারান মুখ্যমন্ত্রী। গাড়ি থেকে নেমে এসে রীতিমতো তেড়ে যান তিনি। বলতে থাকেন, “‘আয় আয় আয় সামনে আয়। বুকের পাটা থাকলে সামনে আয়। আয় শালা ক্রিমিনাল। অভদ্রতার লিমিট আছে। সাহস কত। বিজেপির ফেট্টি বেঁধে আমাকে গালাগালি দিচ্ছে। এরা এখানকার লোকাল লোক নয়। যত্ন করে রেখে দিয়েছি। এরা আউটসাইডার। উই উইল টেক অ্যাকশন। পুলিশ পুলিশের কাজ করবে”।

 

এরপর মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় নৈহাটি পৌঁছোলে সেখানেও একই ঘটনা। ভেসে আসে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি। মেজাজ হারিয়ে ফের গাড়ি থেকে নেমে এসে মুখ্যমন্ত্রী বলতে থাকেন, ‘ব্যাটা বিজেপির বাচ্চা। ডাকাত। ক্রিমিনাল। সব কটাকে তাড়িয়ে ছাড়ব। অ্যাই!! যার খাবে তার, বাঙালিদের মারবে ‘।

এরপর নৈহাটির সভায় পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, কনভয়ে তাকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করেছে বিজেপি কর্মীরা। সবাইকে তিনি চিনে রেখেছেন, তাদের সবার বাড়িতে হবে নাক চেকিং। তিনি আরও জানান যে, বাংলার স্লোগান জয় হিন্দ এবং জয় বাংলা। একে অপরের সঙ্গে দেখা হলে জয় হিন্দ বলবে৷

RELATED Articles

Leave a Comment