জগন্নাথ মন্দির দর্শনের জন্য এবার আর বাঙালিকে পুরী যেতে হবে না। কারণ রাজ্যের মধ্যতেই তৈরি হচ্ছে জগন্নাথদেবের মন্দির। দিঘায় পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দিরের আদলে মন্দির তৈরি করছে রাজ্য সরকার। প্রায় শেষ হয়েই এসেছে মন্দির নির্মাণের কাজ। এবার জানা গেল, দিঘাতে তৈরি হবে রাম মন্দিরও।
জানা গিয়েছে, দিঘাতে রামমন্দির তৈরি করার আবেদন জমা পড়েছে প্রশাসনের কাছে। রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র দিঘাতে রামলালার মন্দির তৈরি করার আবেদন জানানো হয়েছে। এই আবেদন জানানো হয়েছে, ড: শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ব্যবসায়ী কমিটি (দিঘা) ও সনাতনীবৃন্দের তরফে। গতকাল, বৃহস্পতিবার এই কমিটির সদস্যরা দিঘায় মিছিল করে দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন বলে জানা গিয়েছে।
এই কমিটির দাবী, দিঘায় অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ আসেন। তাদের কথা ভেবেই যাতে এই রামমন্দির তৈরির আবেদন গ্রহণ করা হয়। এই বিষয়ে দিঘা শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সৌভিক ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা স্মারকলিপি গ্রহণ করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে”।
রামমন্দির তৈরি প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা তপন মাইতি বলেন, “বহু পর্যটক আসেন দিঘায়। অনেকেই সমুদ্রে স্নান করার পর মন্দিরে যেতে চান। তাছাড়া দিঘা জুড়ে দুষ্কৃতী হানা বাড়ছে, পরিবেশ খারাপ হচ্ছে”। রামমন্দির তৈরির পাশাপাশি মেডিটেশন সেন্টার তৈরি হোক, এমনটাও চান বিজেপি নেতা। মন্দির তৈরির জন্য ২ একর জমির প্রয়োজন বলে আবেদন জানিয়েছে এই কমিটি।
এই বিষয়ে জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি সুপ্রকাশ গিরি বলেন, “আমি চাই আগে জগন্নাথ মন্দির তৈরি হোক। সেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। রাম মন্দিরে আপত্তি নেই, তবে জগন্নাথ মন্দির তৈরি হওয়ার পর রাম মন্দিরের কথা ভাবা যাবে”।
প্রসঙ্গত, দিঘায় মসজিদও তৈরি হবে। এই মসজিদের জন্য মুসলিম সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দকে জমি দেবে রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, ২ একর ১১ ডেসিম্যাল জমির উপর এই মসজিদ তৈরি হবে। নিউ দিঘা পিকনিক কমপ্লেক্সের কাছে সমুদ্র সৈকতের ঘা ঘেঁষে রয়েছে এই জমি। এটি দিঘা-শঙ্কর উন্নয়ন পর্ষদের জমি। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন জানায় মসজিদ তৈরির জন্য জমি চেয়েছি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ জমি চেয়েছিল। তবে হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে এখনও পুরোপুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেই খবর।





