মিথ্যে অপবাদ দিয়ে এক মহিলাকে থানায় তুলে এনে তাঁকে শারীরিক নিগ্রহ করার অভিযোগ উঠল এক পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়। পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন গ্রামবাসীরা। ওই পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে খবর।
কোথায় ঘটেছে ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির খানাকুলে। খানাকুল থানার মালঞ্চ এলাকার পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে রয়েছেন ওই পুলিশ কর্মী। নাম তুষার মণ্ডল। সেই ফাঁড়ির পাশেই রয়েছে এক প্রাইমারি স্কুল। যে মহিলাকে নিগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ, সেই মহিলার ছেলে ওই স্কুলেই পড়াশোনা করে বলে জানা গিয়েছে।
কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীর দাবী, কিছুদিন আগে ওই স্কুলের মাঠে ভলিবল খেলছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর হাতের সোনার ব্রেসলেটটি হারিয়ে যায়। এই ঘটনায় ওই মহিলা ও তাঁর নাবালক ছেলেকে দোষারোপ করেন ওই পুলিশ কর্মী। চুরির বদনাম দেন তাদের।
এরপর সেই ব্রেসলেট ফেরত চাইতে গতকাল, বৃহস্পতিবার তাদের বাড়ি চড়াও হন ওই পুলিশ কর্মী। মহিলাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান তিনি। অভিযোগ, প্রায় ১১ ঘণ্টা মহিলাকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় তাঁর উপর। রাত ২টোর সময় গুরুতর জখম অবস্থায় মহিলাকে তাঁর বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।
মহিলার পরিবার জানায়, মহিলাকে প্রায় আধমরা করে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছিল। যাওয়ার সময় হাতে এক হাজার টাকা গুঁজে দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার হুমকিও দিয়ে যান ওই পুলিশ কর্মী। ওই নির্যাতিতা জানান, “আমি কিছুই জানি না যে, কে ওনার ব্রেসলেট কুড়িয়ে পেয়েছে। বারবার বলা সত্ত্বেও তিনি আমাকে নিস্তার দেননি। প্রচুর মারধর করেছেন। এরপর আমি আর কিছু জানি না। আমার কোনও জ্ঞান ছিল না। আমি ওর শাস্তি চাই”।
এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। পুলিশ কর্মীর শাস্তির দাবী তোলা হয়। আরামবাগের এসডিপিও জানান, নির্যাতিতার মহিলার পরিবার খানাকুল থানায় পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।





