প্রেমিকের সঙ্গে দেখে ফেলেছিল বাবা-মা, ভয় পেয়ে যায় রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে আত্মঘাতী

বিধাতার পরিহাস বটে। প্রেমিকের জন্মদিন বদলালো প্রেমিকার মৃত্যুদিনে। বড় হয়ে উঠেছিল রক্ষণশীল পরিবারের। যেখানে নাবালিকা মেয়ের প্রেম বাবা মায়ের চোখে কঠিন অপরাধ। আর সেই অপরাধ‌ই করেছিল মেয়ে। আত্মঘাতী হয়ে নিজের অপরাধ থেকে মুক্তি দিল নিজেকে।

প্রেমিকের সঙ্গে দেখে ফেলেছিলেন বাবা-মা। দ্রুত বাড়ি ফেরার নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁরা। বাড়ি গেলে হয়ত কোন‌ও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে, সেই আতঙ্কেই ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হল বছর ১৬-এর এক কিশোরী। ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির চন্দননগরে। মৃত কিশোরীর নাম নম্রতা দাস। বাড়ি চন্দননগরের পালপাড়ায়।

গতকাল অর্থাৎ শনিবার কালীপুজোর দিন বান্ধবীর জন্মদিনে যাচ্ছে বলে বাড়ি থেকে বেরোয় ওই কিশোরী। এরপর সোজা যায় তার প্রেমিকের বাড়িতে। সেখানে প্রেমিকের জন্মদিন উদযাপন করে। দুপুরের খাওয়া দাওয়া‌ও পারে সেখানে। তারপর সন্ধেবেলা নম্রতা তার প্রেমিক ও এক বান্ধবীর সঙ্গে ঘুরতে বের হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, মোটরবাইকে করে ঘোরার সময়‌ই পথে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় ওই কিশোরীর। রক্ষণশীল পরিবারে বড় হয়ে ওঠা ওই কিশোরীকে দ্রুত বাড়িতে ফিরতে বলেন বাবা-মা। ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে ওই কিশোরী।

জানা গেছে, এরপরই কিশোরী তার প্রেমিক ও বান্ধবীকে জানায় তখনই তাকে বাড়ি ফিরতে হবে। এরপর‌ই একটি টোটো ভাড়া করে সে সোজা চলে যায় চন্দননগর হাসপাতাল মোড়ে। ঢোকে নিজের এক বান্ধবীর আবাসনে। তবে বান্ধবীর ফ্ল্যাটে না ঢুকে সোজা উঠে যায় সিড়ি দিয়ে চারতলার ছাদে। সেখান থেকেই মৃত্যু ঝাঁপ দেয় সে। বিষয়টি নজরে পড়তে স্থানীয়রাই কিশোরীকে উদ্ধার করে চন্দননগর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রবিবার চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর কিশোরীর মৃতদেহ তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। চন্দননগর থানার পুলিশ এই ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। মেয়ের এই পদক্ষেপে হতভম্ব কিশোরীর বাবা-মা।

RELATED Articles