“আর পারছিনা, আমাকে বিষ দিন, আমি খেয়ে মরে যাই” বাইপাসের সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের বাইরে দাঁড়িয়ে যুবকটি যখন হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে এই কাতর আর্তি করছিলেন তখন সত্যিই তা চোখে দেখা যাচ্ছিল না।
ইএম বাইপাসের ধারে সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের চূড়ান্ত অব্যবস্থার অভিযোগ আনলেন সেন্টারে থাকা আবাসিকরা। অভিযোগ করলেন তাদের না দেওয়া হচ্ছে খাবার, না কোন আছে পানীয় জলের ব্যবস্থা, এমনকি শৌচাগার এতটাই নোংরা যে সেখানে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। ওই সেন্টারের এক আবাসিক বাসিন্দা আজ একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে নিজের অভিযোগ জানাতে শুরু করলে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা তাকে প্রবলভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু তবুও তিনি অকুতোভয় হয়ে নিজেদের সমস্যার কথা জানান।
তিনি জানান তার নাম রামকৃষ্ণ মাইতি, তিনি ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, তিনি একজন উপসর্গহীন কোভিড পজিটিভ রোগী। তাকে পাড়া থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে তার বাড়িতে চার বছরের বাচ্চা স্ত্রী ও মা সবাই রয়েছে। পাড়া থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর তিনি এই সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে আসেন কিন্তু সেখানেও চূড়ান্ত বিশৃংখলা এবং অব্যবস্থা। সরকারি অবহেলা এতটাই বেশি যে রামকৃষ্ণ বাবু ক্যামেরার সামনে রীতিমতো কান্নাকাটি শুরু করে দেন এবং বলতে থাকেন “আমি পাড়া থেকে বিতাড়িত হয়েছি এখান থেকেও বিতাড়িত হচ্ছি, একটা কাজ করুন আমাদেরকে বিষ দিন আমরা খেয়ে মরে যাই।” তিনি জানান যে সকাল থেকে তাদেরকে পানীয় জল দেওয়া হয়নি এমনকি কোন খাবার পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। বাকি আবাসিকদের সঙ্গে মিলিয়ে বিক্ষোভ করাতে বেলা এগারোটার সময় সরকারের পক্ষ থেকে রুটি ও কলা দেওয়া হয়েছে। শৌচাগার এত নোংরা যে যাওয়া যাচ্ছে না।
খিদের চোটে তার শরীর খারাপ করছে। যেখানে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে কোভিড হলে বারবার জল খেতে ও পুষ্টিকর খাবার খেতে সেখানেই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে তো জলই দেওয়া হচ্ছে না খাবার তো দূরের কথা।
এরপর এই ব্যক্তিকে পরোক্ষভাবে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে মিডিয়ার সামনে থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক মিডিয়ার উপর চোটপাট করতে শুরু করেন। এই ঘটনায় তীব্র জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যে। যেখানে কলকাতার মতো রাজধানী শহরে করোনা আক্রান্তরা এরকম ট্রিটমেন্ট পাচ্ছেন সরকারের থেকে সেখানে গোটা রাজ্যের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে বাকি রোগীদের কী অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়।
সম্প্রতি রাজ্যের একাধিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। পরিযায়ী শ্রমিকরা বারবার অভিযোগ করেছেন যে সরকারি সেন্টারে খাবার ও জল পাওয়া যাচ্ছে না। এই নিয়ে বাম থেকে বিজেপি সকলেই শাসকদলের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে। কিন্তু তাতেও যে রাজ্য সরকারের টনক নড়েনি বৃহস্পতিবারের ঘটনা আরেকবার সেই কথাই প্রমাণ করে দিল।





