‘শুভেন্দু তৃণমূলের জন্য লক্ষ্মী’, বললেন অভিষেক, ‘না, ও আমাদের সম্পদ’, দাবী সুকান্তের, বিরোধী দলনেতাকে নিয়ে দ্বন্দ্ব দু’পক্ষের

এমনিতে তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে শানাতে কোনও সুযোগ ছাড়েন না। বর্তমানে উত্তরবঙ্গে সংযোগ যাত্রা করছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কর্মসূচি থেকেই ফের একবার শুভেন্দুকে কটাক্ষ শানালানে অভিষেক। বললেন, “ও আমাদের লক্ষ্মী”।

আজ, সোমবার করণদিঘি হাইস্কুলের ময়দানে সভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই জনসভা থেকেই শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, ও তৃণমূলের লক্ষ্মী ও যত বিজেপিতে থাকবে বিজেপি তত মায়ের ভোগে যাবে। এমনিতেই শনির দশা চলছিল। ও ঢোকাতে রাহু আর কেতু এই দুটো দশাও সম্মিলিত হয়েছে”।

প্রসঙ্গত, প্রথম থেকেই তৃণমূলের জনসংযোগ কর্মসূচি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী নিশানা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তৃণমূলের সাংসদের এই জনসংযোগ কর্মসূচির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, দলীয় কর্মসূচির নিরাপত্তায় রাজ্য পুলিশকে মোতায়েন করা হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেই নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে চিঠি লিখেছেন শুভেন্দু। সেই চিঠিটি টুইটও করেছেন তিনি। সেই প্রসঙ্গেই এহেন মন্তব্য করেন অভিষেক।

এদিন করণদিঘির সভামঞ্চ থেকে শুধুমাত্র শুভেন্দুই নন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিশানা করেন কেন্দ্রের মোদী সরকারকেও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কী বাত’-কে তীব্র কটাক্ষ করেন অভিষেক। বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘মন কী বাত’-এর ১০০ এপিসোড নাকি পার করেছেন, এদিকে বাংলার ১০০ দিনের একটা টাকাও ছাড়েনি। গোটা দেশের মানুষের পেটে ভাত, রুটি জুটছে না আর উনি মন কী বাত করছেন। ১০০ তম পর্ব করেও বাংলা নিয়ে একটা শব্দও মুখ থেকে বেরোয়নি। গত ৯ বছরে বাংলা নিয়ে একটাও পর্যালোচনা মিটিং করেনি। অথচ এরাজ্য থেকে তো কেন্দ্রীয় মন্ত্রকেও লোক নির্বাচিত হয়েছে। তাও কিছুই পায়নি বাংলা”।

শুভেন্দুকে নিয়ে অভিষেকের এহেন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পাল্টা জবাব দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কথায়, “বাংলায় একটা প্রবাদ রয়েছে— ‘আঙুর ফল টক’। তৃণমূলেরও তাই অবস্থা। শুভেন্দু অধিকারী আমাদের জন্য সম্পদ। তিনি বিজেপিতে আসার পর লড়াইকে নতুন অভিমুখ দিয়েছেন। তৃণমূল হতাশা থেকে এসব কথা বলছে”। অভিষেকের উদ্দেশে পাল্টা প্রশ্ন তুলে বিজেপি বলে, শুভেন্দুকে নিয়ে যখন এতই আপত্তি, তখন দল ছাড়ার সময় তাঁকে আটকাতে চেয়েছিল কেন তৃণমূল?

আরও অন্যান্য খবর