দলে প্রবীণ নেতাদের নিয়ে এর আগেও তৃণমূলের তরুণদের অসন্তোষের দিকটি লক্ষ্য করা গিয়েছে। এবার লোকসভা নির্বাচনের আগে ফের উঠে এল সেই বিতর্ক। কানাঘুষো এও শোনা যাচ্ছে যে এই নিয়ে নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে মতের অমিলও হয়েছে। এবার সেই নিয়ে মুখ খুললেন অভিষেক।
কী বক্তব্য অভিষেকের?
অনেকটা তরুণ বয়সেই দলের সর্বভারতীয় সম্পাদক হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, শুধুমাত্র তিনি নন, দলের অন্যান্য তরুণদেরও সুযোগ দিতে হবে। এই নিয়ে মমতার সঙ্গে মতের অমিল প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “দিদির সঙ্গে কোনও মতান্তর নেই। আমি নেই কে বলছে, আমি তো আছি। শুধু একটা সভাতে ছিলাম না। সেখানে আমার ছবি না থাকায় কোনও সমস্যা নেই, দলনেত্রীর ছবি তো ছিল”।
অভিষেকের কথায়, “তবে আমি মনে করি সব পেশায়, সর্বত্র যেমন একটা বয়সের উর্ধ্বসীমা থাকে, তেমনই রাজনৈতিক দলেও থাকা উচিত। কারণ, বয়স বাড়লে মানুষের প্রোডাক্টিভিটি কমে যায়। তিরিশ চল্লিশ বছর বয়সে একটা মানুষ যতটা দৌড়ে কাজ করতে পারেন, সত্তর বছরে পৌঁছে তা করা যায় না”।
এর আগে দলীয় ব্যবস্থা নিয়ে ঠিক এই একই প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেছিলেন, “দেহত্যাগ না করলে পদত্যাগ নয়, এ কেমন কথা। দলে এক শ্রেণীর নেতা রয়েছেন যাঁদের মনোভাব হল, আমিই আমৃত্যু সাংসদ বা বিধায়ক থেকে যাব, আর কিছু কর্মী রয়েছেন যাঁরা সারাজীবন ধরে আমার জন্য দেওয়াল লিখে যাবে”।
এই বিষয়ে রাজস্থানের উদাহরণ টেনে আনেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজস্থানে নবীন নেতা শচীন পাইলটের সঙ্গে প্রবীণ নেতা অশোক গেহলটের বিরোধ গত তিন বছর ধরে চলছে। অশোক গেহলট কোনও ভাবেই শচীনকে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দিতে রাজি ছিলেন না।
এদিন অভিষেক বলেন, “রাজস্থানে কংগ্রেস মাত্র ২ শতাংশ ভোটে বিজেপির কাছে হেরেছে। কংগ্রেসের এই প্রবণতা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে চান কেউ কেউ। এই ভুল যদি ৬ মাস বা এক বছর আগে সংশোধন করা যেত তাহলে এই ভরাডুবি হত না”।
তাঁর কথায়, “প্রতিভাকে কখনওই গায়ের জোরে বা ষড়যন্ত্র করে চেপে রাখা যায় না। তার স্ফুরণ ঘটবেই। তা সে সিপিএম হোক বা বিজেপি হোক বা কংগ্রেস হোক— যে কোনও পার্টিই হোক না কেন”। তৃণমূল সূত্রে খবর, লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়েই হয়ত মমতার সঙ্গে মতান্তর হয়েছে অভিষেকের। যদিও অভিষেক স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে কারা প্রার্থী হবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলনেত্রীই। তবে তিনি এও জানান, অনেকেই নতুন তৃণমূলের কথা বলছেন।





