আজ, মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ লুইজিনহোকে ফালেরিও (Luizinho Faleiro)। তিনি গোয়ায় দু’বার কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। এআইসিসি-র তরফে উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে কংগ্রেসের (Congress) হয়ে পর্যবেক্ষকের কাজও করেছেন তিনি। তাঁকে তৃণমূলে (TMC) যোগ দেওয়ানোর পর রাজ্যসভার সাংসদ করা হয় লুইজিনহোকে। তবে আজ নিজেই ইস্তফা দিলেন তিনি। আর এই নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধতে ছাড়লেন না প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)।
এদিন অধীর চৌধুরী বলেন, “কংগ্রেস থেকে ভাঙিয়ে নেওয়ার জন্য লুইজিনহোকে টাকা দিয়েছিল তৃণমূল। তিনি যেহেতু উত্তর-পূর্বের ইনচার্জ ছিলেন তাঁকে দিয়ে মেঘালয়ের কংগ্রেসকে ভাঙিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। আজকে সেই তিনিই রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ পদ ছেড়ে দিলেন। দিদি ভাবতেন চালাকি দিয়ে সব হয়। কিন্তু উনি বোঝেননি চালাকি করে মহৎ কাজ হয় না”।
এদিন অধীর আরও বলেন কীভাবে তৃণমূল গোয়ায় লড়াই করে বিজেপিরই সুবিধা করে দিয়েছে, তা সকলেই দেখেছে। অন্যদিকে, লুইজিনহোর ইস্তফা দেওয়া প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, “বেশ কিছুদিন ধরেই দলের মধ্যে লুইজিনহো ফেলারিওকে নিয়ে আলোচনা চলছিল। এদিন তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। নির্বাচনের দিন ঘোষণা হলে দল ওই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করব”।
অন্যদিকে আবার গতকাল, সোমবারই জাতীয় দলের তকমা হারিয়েছে তৃণমূল। এদিন নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে তৃণমূল আর সর্বভারতীয় দল নয়। আর এর ঠিক পরদিনই লুইজিনহোর ইস্তফা দেওয়া বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই বিষয়ে অধীর চৌধুরী কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূল জাতীয় দলের মর্যাদা হারিয়েছে। লিখে রেখে দিন, দিদির দল ভিলেজ পার্টিতে পরিণত হবে”।
উল্লেখ্য, তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর লুইজিনহো ফালেরিও জানিয়েছিলেন যে তিনি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করা। অন্যদিকে তিনি তৃণমূলকে কংগ্রেসের সম্প্রসারিত অংশ বলেই মনে করতেন বলে যোগ দেন তৃণমূলে। কিন্তু এবার সেই দলকেও বিদায় জানালেন লুইজিনহো।





