মনের অদম্য ইচ্ছের কাছে হার প্রতিবন্ধকতার, দু’হাত-এক পা অচল, অন্য পা দিয়ে লিখেই উচ্চমাধ্যমিকে চোখ ধাঁধানো রেজাল্ট রহমানের

মনের অদম্য ইচ্ছে থাকলে কোন প্রতিকূলতাই আপনাকে আটকাতে পারবেনা। আপনার জেদের বসেই আপনি কাজের সফল হতে পারবেন। আমরা অনেক সময় দেখেছি পরিবারের নানা সমস্যা, আর্থিক অনটন, না খেতে পেয়েও পরীক্ষা দিয়েছেন পরীক্ষার্থী। তবে যদি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আসে, কিভাবে মোকাবিলা করবেন নাকি হাল ছেড়ে দেবেন। মনের জোরের কাছে কোন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও টিকতে পারবে না। এমনই অদম্য মনের ইচ্ছে নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলেন এক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আলম রহমান (Alam Rahman)

দুহাত অচল। অচল একটা পা। কথা বলতেও সমস্যা হয়। ভরসা একটি মাত্র পা। নিত্যদিনের কাজের জন্য ভরসা করতে হয় মা-বাবার ওপর। সংসারে আর্থিক অনটন তো রয়েছেই। বাবা-মা মুদিখানার দোকান চালান। মনের জোর অসীম কোন বাধাই আটকাতে পারেনি। তাই জেদ করে এক পা দিয়ে লিখেই উচ্চমাধ্যমিকে নাম্বার পেলেন ৪০২। ‌মুর্শিদাবাদের বড়ঞার বৈদ্যনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা আলম রহমান (Alam Rahman)। এক পায়ের ওপর ভরসা করে লিখে উচ্চমাধ্যমিকে নম্বর পেয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।

আলম রহমান (Alam Rahman) জন্ম থেকেই স্নায়ু রোগের আক্রান্ত। স্নায়ু রোগেই দু হাত, পা অচল। কথা বলতে সমস্যা হয় আলম রহমানের। এক পায়ে ঠিকভাবে দাঁড়াতে পারেনা। নিত্যদিনের যাবতীয় কাজ করে দেন পরিবারের লোকজন। সমস্ত প্রতিকূলতা সহ্য করেই পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন মেধাবী ছাত্র আলম রহমান। মাধ্যমিকের পর কান্দি রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন আলম। প্রতিদিন নিজের সাথে নিজের লড়াই করে দেখিয়ে দিয়েছেন প্রতিকূলতা বাহানা মাত্র‌। পা দিয়ে পরীক্ষা দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সকলকে। প্রতিকূলতা জয় করে এক পায়ে লিখে চোখ ধাঁধানো রেজাল্ট করেছেন তিনি।

আলম রহমানের (Alam Rahman) বাবা ফিরোজ মহম্মদ ও মা আলমা তারা বিবি বলেন, “মাধ্যমিক পাশ করার পর ছেলের ইচ্ছা ছিল বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার। কিন্তু আমরা খুবই গরিব। বুঝতেই পারছিলাম না কীভাবে ছেলের পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাব। কান্দির পুরপ্রধান জয়দেব ঘটক ও বিধায়ক অপূর্ব সরকার ছেলের দায়িত্ব গ্রহণ করায় চিন্তামুক্ত হই। এই রেজাল্টের পিছনে ওঁদের কৃতিত্ব সবচেয়ে বেশি। ছেলের বন্ধুরা ওকে অনেক সাহায্য করেছে। আমরা ছেলেকে আরও পড়াতে চাই।”

নিজের ভালো রেজাল্ট সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে আলম রহমান (Alam Rahman) বলেন, “আমি প্রমাণ করতে চাই প্রতিবন্ধকতা কোনও বাধা হতে পারে না। যদি মনে জোর থাকে ও আত্মবিশ্বাস থাকে সব কিছু জয় করা যায়। আমার এই রেজাল্টের জন্য কান্দির পুরপ্রধান, বিধায়ক অনেক সাহায্য করেছেন। ওদের পাশে পেয়ে আমি ধন্য।” আলম বরাবরই মেধাবী। ২০২২ সালে গড্ডা গণপতি চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে ৬২৫ নম্বর পেয়েছিলেন তিনি। এরপর তার লেখাপড়ার দায়িত্ব নেয় প্রশাসন। ফের উচ্চমাধ্যমিকে তাক লাগিয়ে দিলেন আলম রহমান।

RELATED Articles