নবান্নে ডেকে পাঠিয়েছিলেন মমতা, ডাক এসেছিল রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার জন্যেও, তবে কেন রাজনীতির ময়দানে দেখা যায়নি অনামিকা সাহাকে

টলিপাড়া অনামিকা সাহাকে (Anamika Saha) খুব ভালো করেই চেনেন। এখনকার বেশিরভাগই তাকে চিনবেন খলনায়িকার চরিত্রে। তবে অন্যান্য বহু চরিত্র তিনি করেছেন। অভিনয়ের ছাপ পড়ে রয়েছে টলি জগতে একাধিক ছবিতে। প্রসেনজিতের সাথে একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন মায়ের চরিত্রে। তবে শুধুমাত্র মায়ের চরিত্রই করেননি তিনি, এক সময় তিনি করেছেন নায়িকার চরিত্রও। টলিপাড়ার পরিচিত ভিলেন অনামিকা সাহা।

পর্দায় দাপুটে অভিনেত্রী (Anamika Saha) হলেও বাস্তবে তিনি বড্ড সরল সকলের সাথে গল্প জমিয়ে দিতে পারেন অনায়াসে। জানেন এই অনামিকা সাহার কাছেই দলে যোগ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ভোটের আবহে সম্প্রতি অনামিকা সাহা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে দেখার প্রথম দিনের কথা। সেই দিনটা কোনদিনও ভুলতে পারবেন না অভিনেত্রী। অনামিকা সাহা বললেন, “বিয়ের পরের ঘটনা, একদিন শ্বশুরবাড়ি ফেরার পথে দেখি একটা মেয়ে মাথায় রক্ত নিয়ে পড়ে আছে। বাড়ি ফিরে শ্বশুরমশাইয়ের থেকে জানতে পারি, উনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খুব লড়াই করছেন সিপিএমের বিরুদ্ধে। সেই আমার প্রথম চেনা। তারপর একটা সময় দেখি তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়ে গেলেন। তখন আমি মনে মনে ভাবলাম, কত লড়াই না করতে হয়েছে ওঁকে এই জায়গায় পৌঁছতে। কীভাবে দেখেছিলাম, আর আজ তিনি এই চেয়ারে। তখন মনে হল, আমিই কিছু করতে পারলাম না। বিয়ের পর আমার শ্বশুরমশাই কাজ বন্ধ করে দিলেন, নয়তো আজ…।”

আক্ষেপের মাঝেও গর্ব করেন অভিনেত্রী (Anamika Saha)। তিনি বলেছেন, “ওনাকে দেখে আমার মনে হয়েছিল, চেষ্টাটাই সব। উনি আমায় লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড দিয়েছেন। আমার মনে আছে, আমি তখন যাত্রা করি, তাপস পাল, শতাব্দী রায় একটা দলে, অভিষেক চট্টোপাধ্যায়, আমি অন্য একটা দলে। আমরা শো করতে গেলে প্রায়ই এক হোটেলেই থাকতাম। এরই মাঝে ব্রেকফাস্টের পরে তাপস, অভিষেক, সব আমার ঘরে এসে জড়ো হয়। গল্প চলছে। এমন সময় একটা ফোন এল। তাপস আমাকে বলছে, মমতাদি চাইছেন তুমি ভোটে দাঁড়াও। আমি বললাম, পাগল নাকি, ধুর…আমি এসব পারি না, রাজনীতি বুঝি না। আমি সরল মানুষ, অত মিথ্যে কথা বলতে পারি না। সেই জায়গায় শতাব্দী দাঁড়াল।”

আর রাজনীতির ময়দানে যোগ দেওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে প্রচারে তাকে দেখা গেছে বিভিন্ন সময়ে। অনামিকা সাহা (Anamika Saha) বলেছেন, “আমায় যখন তিনি পুরস্কার দিলেন, তখন বললেন, আপনি ভিলেনের পাঠ করেন, তাও আপনাকে আমার খুব দরকার। আপনি একদিন নবান্নে আসুন, আপনাকে আমার খুব দরকার। এরপর একদিন হরনাথ চক্রবর্তী আমায় ফোন করে বললেন, দিদি ডেকে পাঠিয়েছে, তোমাকে নিয়ে আমায় যেতে বলেছে। সেবারে দিদি আমায় বললেন, এবারে প্রচারে আমি আপনাকে চাই। আমি ফেরাইনি। ২৪টা জায়গায় আমি প্রচার করেছি। তবে এবার আর পারলাম না। সিরিয়ালের কাজ, রোদ, শরীরও আর দেয় না গো। যদিও আমার মেয়ে কিন্তু বেশ রেগে গিয়েই আমায় বলেছিল, তুমি রাজনীতি করলে আমি আর মা বলে ডাকব না। তুমি অভিনয়টাই কর। ব্যস আমিও তাই করছি।”

RELATED Articles