Allegation Against Teacher for Not Taking Class for Years: বছরের পর বছর ক্লাসই করান না। কিন্তু মাসের শেষে স্কুলে গিয়ে হাজিরার খাতা ঠিক ভরে আসেন। মাস গেলে মাইনে নিতে হবে তো! এদিকে নিজে স্কুলে না গিয়ে ক্লাস না করিয়ে রেখেছেন এক ডামি শিক্ষিকা যিনি আবার তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী। এভাবেই শিক্ষকের হয়ে দিনের পর দিন প্রক্সি দিচ্ছেন মহিলা (Allegation Against Teacher for Not Taking Class for Years)।
এমন ঘটনা ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর ব্লকের ভগবানখালি নিউ প্রাইমারি স্কুলে। ওই স্কুলের শিক্ষক স্বপন প্রধান আবার চণ্ডীপুর এলাকায় বেশ দাপুটে তৃণমূল নেতা বলে পরিচিত। তিনি বছরের পর বছর স্কুলেই যান না (Allegation Against Teacher for Not Taking Class for Years)। তাঁর বদলে তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী গিয়ে ক্লাস করান, এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষক একে তো এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তার উপর আবার জেলা পরিষদের সদস্য। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে কেউ এতদিন মুখ খোলার সাহস পায় নি।
তবে এবার তৃণমূল নেতা শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরব এলাকাবাসী থেকে শুরু করে বিরোধীরা। এক অভিভাবকের কথায়, “আমরা তো স্কুলে সেভাবে শিক্ষককে দেখেনই না। মাঝেমধ্যেই তিনি স্কুলে আসেন না। তার বদলে ক্লাস নেন এক মহিলা” (Allegation Against Teacher for Not Taking Class for Years)।
এই ঘটনায় জেলা বিজেপি সহ সভাপতি পুলক গুড়িয়া অভিযোগ করেন, “বাংলায় এখন যা অবস্থা, তাতে এ ঘটনা স্বাভাবিক। শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ওঁ এখানকার তাবড় নেতা। তিনি ক্লাস নিতে যাবেন না এটাই স্বাভাবিক। বিগত কয়েক বছর স্কুলেই যান না। অ্যাটেনডেন্স দিতে দু-তিন মাসে একবার যান। ওঁ ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, তাই শিক্ষকতার পেশায় সময় দিতে পারেন না” (Allegation Against Teacher for Not Taking Class for Years)।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বপন প্রধান (Allegation Against Teacher for Not Taking Class for Years)। তাঁর কথায়, “আমার খাতা কলমের রেকর্ড বলবে। আমি নিয়মিত ক্লাস করি। ২০২৩ সাল থেকে আমি জেলা পরিষদ সদস্য। তার আগে তো আমি জেলা পরিষদ সদস্য ছিলাম না । অসুস্থতার কারণে আমি মেডিক্যাল লিভ নিয়েছিলাম। হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমি ছুটির লিখিত আবেদন করতে পারিনি”।
তিনি আরও বলেন, “চিকিৎসা করে ফিরে আসার পর আমি ছুটির আবেদন করেছি ও মেডিক্যাল সার্টিফিকেটও জমা দিয়েছি। আমি একটা শোকজ নোটিস পেয়েছি । তার উত্তরও দেব”। অভিযুক্ত শিক্ষক এও জানান যে তিনি এই বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিতাইচরণ মাইতি বলেন, “কোনও ডামি শিক্ষিকা এখানে আসতেন না। একজন শিক্ষানুরাগী মহিলা স্বইচ্ছায় মাঝে মধ্যে আসতেন। ওঁ ক্লাস নিতেন না। কমিটির অনুমতি নিয়ে তিনি মাঝে মধ্যে আসতেন। একজন শিক্ষানুরাগী হিসাবে মাঝে মধ্যে শিক্ষকদের সহযোগিতা ও ছাত্রদের পঠন পাঠনের সুবিধার জন্যে ক্লাস নেওয়ার ও ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন”।
প্রধান শিক্ষকের কথায়, ওই মহিলা নাকি বিনা পয়সাতেই বাচ্চাদের পড়ান। অভিযুক্ত শিক্ষক স্বপন প্রধান গত ১ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ছুটি নিয়েছিলেন বলে দাবী তাঁর। তবে এই বিষয়ে অবশ্য ডিআই পঙ্কজ সর্দার বলেন, “এনকোয়ারি করে একটা রিপোর্ট এসেছিল। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে শোকজ নোটিস পাঠিয়েছি। এরপর আমরা আইননানুগ ব্যবস্থ নেব” (Allegation Against Teacher for Not Taking Class for Years)।





