কোভিড টিকার নামে চলছে নির্বীজকরণ, আদিবাসীদের ফুঁসলিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে টিকা, ভয়ঙ্কর অভিযোগ রাজ্যে

কোভিড টিকার নামে চলছে নির্বীজকরণ। এমনই ভয়ঙ্কর অভিযোগ আনলেন ভিন রাজ্য থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিক। শুধুমাত্র এই একটি অভিযোগই নয়, নদিয়া জেলা থেকে এমন বেশ কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ জন্মেছে। এরপরই নড়েচড়ে বসল স্বাস্থ্য ভবন। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের থেকে রিপোর্ট তলব করেছে স্বাস্থ্যভবন।

কী অভিযোগ উঠেছে ঠিক?

কালীপুজোর সময় মুম্বই থেকে নদিয়ার বাড়িতে ফিরেছিলেন পরিযায়ী শ্রমিক মাধব দেবনাথ। সেই সময় নাকি তাঁর সঙ্গে এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে বলে। শুধু তাই নয়, মৌখিকভাবে জেলার তরফে অভিযোগ করা হয়েছে যে ওই ব্যক্তি সেই টাকা নিয়ে নেশা করেছিলেন। তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থাতেই রাস্তায় পড়ে গিয়ে চোট পান। হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করে ব্যান্ডেজ করা হয় তাকে। বাড়ি ফেরার পর ওই ব্যক্তি জানান যে তার সম্মতি ছাড়াই নির্বীজকরণ করা হয়েছে।

মৃত্যুঞ্জয় রায় নামে নদিয়ার এক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, “আদিবাসী সমাজের মানুষদের অনেকেই এখনও কম সচেতন। তাই ওদের ফুসলিয়ে হাসপাতালের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অপারেশন করাচ্ছে”।  তাঁর সন্দেহ, অতিরিক্ত আয় কিংবা কমিশনের লোভেই এইসব কাজ করা হচ্ছে।

আবার স্বপ্না রায় নামে অপর এক মহিলার অভিযোগ, তাঁর শ্বশুরকেও এভাবে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “যাদের পয়সার অভাব বা পড়াশোনা জানে না, এমন মানুষজনকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটা ওদের ব্যবসা। এভাবেই ব্যবসা চালাচ্ছে”।

নদিয়া জেলায় এমন নির্বীজকরণের অভিযোগকে বেশ চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। এই নিয়ে পদক্ষেপ শুরু করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। জানা যাচ্ছে, নদিয়া জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের। কী ঘটনা ঘটেছে, তা জানতে চাওয়া হয়। সেই সময় প্রাথমিকভাবে জেলার তরফে এই বিষয়টি স্বাস্থ্য ভবনকে জানানো হয়।

জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয় যে ওই ব্যক্তির সম্মতি নিয়েই গোটা প্রক্রিয়া হয়েছে। আর ওই ব্যক্তি টাকা পাননি বলে যে অভিযোগ করছেন, তাও সঠিক নয়। জেলার তরফে মৌখিকভাবে এই কথা শোনার পর তাদের থেকে লিখিতভাবে রিপোর্ট তলব করেছে স্বাস্থ্যভবন। লিখিত রিপোর্ট পাওয়ার পরই স্বাস্থ্যভবন পরবর্তী পদক্ষেপ করবে বলে জানা গিয়েছে।

RELATED Articles