আর জি কর হাসপাতালে (R gkar college and hospital) তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়ার অমানবিক পরিণতির পর দুই সপ্তাহ কেটে গেছে। তিলোত্তমার বিচার চেয়ে এখনও প্রতিনিয়ত পথে নামছেন মানুষ। দেশের নানা জায়গায় এখনও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ আন্দোলন হচ্ছে ন্যায় বিচার চেয়ে। মানুষ তিলোত্তমার বিরুদ্ধে একটিও খারাপ কথা শুনলেই ঝাঁপিয়ে পড়ছেন রোষে- তারই প্রমাণ মিলল মহানগরী কলকাতায় (Kolkata)।
সম্প্রতি একটি অভিযোগ ওঠে যে, কলকাতার একটি বাসে একজন ব্যক্তি আর জি কর কাণ্ডের বিরুদ্ধে চলতে থাকা প্রতিবাদ বিক্ষোভ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন, এমনকি তিলোত্তমার সম্পর্কে ও তার খুন হয়ে যাওয়া নিয়েও অসংবেদনশীল মন্তব্য করেছিলেন। যার ফলে বাসের সকল যাত্রী তার ওপর রেগে যান, বিশেষ করে মহিলারা ক্ষেপে গিয়ে তার ওপর রীতিমতো চড়াও হন।
এইরকম একটি ভিডিও বেশ কয়েকদিন ধরেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওটি দেখে বোঝা যাচ্ছে যে, তিলোত্তমার বিরুদ্ধে কোনওরকম খারাপ মন্তব্য কেউ সহ্য করছেন না। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে,৭৮/১ নম্বর রহড়া থেকে বাবুঘাট রুটের বাসের ভেতর থেকে প্রবল চিৎকার শোনা যাচ্ছে। এক ব্যক্তিকে রীতিমতো কলার চেপে ধরেছেন মহিলারা, প্রায় মারধর করার মত অবস্থা। ওই ব্যক্তি নিজের পক্ষ নিয়ে কিছু বলতে চাইলেও কেউ তা শুনতে রাজি নয়।
একজন বাস যাত্রী ঘটনাটা বর্ণনা করে বলেছেন, “এই দেখুন এই ব্যক্তি আরজি করের নারী নির্যাতনের ঘটনাকে সমর্থন করছেন। বলছেন, এগুলো বাড়াবাড়ি হচ্ছে।” ওই ভদ্রলোক আরও বলছেন, “যে ডাক্তাররা আমাদের প্রাণ বাঁচিয়েছেন করোনা পরিস্থিতিতে সেই ডাক্তার আর জি করে ধর্ষিতা হয়েছেন, এই ভদ্রলোক সেটার সমর্থন করছেন, সকলকে উত্যক্ত করছেন।”
অন্য একজন মহিলা বলছেন যে, “এই ভদ্রলোক সেই তখন থেকে একটানা বলে যাচ্ছে,কেন মিছিল হচ্ছে কেন প্রতিবাদ হচ্ছে, কেন বাস ঘুরিয়ে দিচ্ছে। এত অসভ্য অসভ্য কথা বলছেন”। আর একজন মহিলা বলেন, “উনি তখন থেকে বলে চলেছেন এইরকম ডাক্তারদের এরকমই হওয়া উচিত। সরকারি পয়সায় ফ্রিতে পড়াশোনা করার কথা মনে ছিল না!”
এরপর ঐ ভিডিওতে দেখা যায় যে একজন পুলিশ বাসে ওঠে ওই ভদ্রলোককে নামিয়ে নিয়ে যান যদিও তার পরেও বাসের মানুষজনের রাগ কমেনি। পুলিশের সাথে নীচে নামার পরেও ঐ ভদ্রলোক বলতে চেষ্টা করেন , সাধারণ মানুষের পথে ঘাটে চলাফেরা করতে অসুবিধা হওয়ার কথা কিন্তু সকলের চিৎকারে সেটা শোনা যায় না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই ভিডিওর সত্যতা কতটুকু তা যাচাই করেনি খবর ২৪x৭।





