দিন দিন রাজ্যে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। কোনওভাবেই সামাল দেওয়া যাচ্ছে না করোনার সংক্রমণকে। আর তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কড়া লকডাউনের পথে হাঁটতে চাইছে রাজ্য প্রশাসন। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের একটি পরিকল্পনার খসড়া তেমনই জল্পনা উস্কে দিয়েছে। ওই পরিকল্পনায় ১৪ দিনের জন্য বাজার, গণপরিবহণ, ধর্মীয় স্থান বন্ধ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। মাত্র ২০ শতাংশ কর্মী নিয়ে অফিস-কারখানা চালানোর কথা বলা হয়েছে। দমদম থেকে আন্তর্জাতিক উড়ান বন্ধ রাখার প্রস্তাবও আছে ওই পরিকল্পনায়।
তবে কবে থেকে এই পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে, তার স্পষ্ট কোনও উল্লেখ নেই। বলা হয়েছে, পরিষেবা বন্ধ করার দু’দিন আগে থেকে মাইকে প্রচার করা হবে।
রাজ্যে কোভিড সংক্রমণে কলকাতার পরেই দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে উত্তর ২৪ পরগনা। কাজেই এই দুই এলাকায় কড়াকড়ির দরকার বলে প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশের অভিমত। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা সংক্রমণ। আর সেই কারণেই পুরো উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় আরও কড়া ভাবে লকডাউন করার প্রস্তাব নবান্নে পাঠিয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনারর জেলা শাসক।
মহকুমা এবং কমিশনারেট সব মিলিয়ে ৫টি জায়গা চিহ্নিত করেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। সেগুলো হল যথাক্রমে – ব্যারাকপুর, বনগাঁ, বসিরহাট, বারসাত এবং বিধাননগর।
এক নজরে দেখে নিন ১৪ দিনের লকডাউনের প্রস্তাবে কি কি উল্লেখ করা হয়েছে-
১. অফিসে কর্মীর উপস্থিতির হার ২০ শতাংশে নিয়ে আসতে হবে।
২. সমগ্র উত্তর ২৪ পরগনা জুড়ে বাস, টোটো এবং অটো পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে।
৩. বন্ধ করে দেওয়া হবে সমস্ত শপিং মল, রেস্টুরেন্ট-সহ সব বিনোদনের জায়গা।
৪. জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে যেমন ছিল।
৫. সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিতে হবে ধর্মীয় স্থান।
৬. একইসঙ্গে বন্ধ করতে হবে বিমান চলাচল।
৭. সেইসঙ্গে মাস্ক পরাও বাধ্যতামূলক।
সূত্রের খবর, হঠাৎ করে লকডাউন ঘোষণা করা হবে না। দু’দিন প্রচার করা হবে এবং সঙ্গে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। ১৪ দিনের লকডাউনের প্রস্তাব থাকলেও ১০ দিন পর একটি রিভিউ হবে। তারপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এখনও পর্যন্ত কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলির করোনা পরিস্থিতি বেশ খারাপ।





