তাঁকে বলা হয় বীরভূমের বেতাজ বাদশা। যদিও বর্ধমানের বেশ কিছু এলাকা (৫৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত) তাঁর সাম্রাজ্যের অধীনেই পড়ে। সেই বাদশা মাঝে মাঝে কিছু বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন যার জন্য তিনি ‘বিখ্যাত’। তৃণমূলের অন্যতম রত্ন, বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল এবার বলে দিলেন যে, কোনও পঞ্চায়েত প্রধান যদি গ্রামের মানুষের কাছ থেকে ২০০ টাকা দেয় সেটাকে কি আর দুর্নীতি বলে?
তাঁর আরেক নাম কেষ্ট। কেষ্টদার এহেন উক্তিতে বেজায় ফাঁপরে পড়েছেন তাঁর দলেরই সদস্যরা। সম্প্রতি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের লাইভ সাক্ষাৎকারে এসেছিলেন অনুব্রত। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় যে, দুর্নীতি নিয়ে বর্তমানে শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ উঠছে। এই ব্যাপারে তাঁর কী বক্তব্য?
কেষ্টদা সাফ জানিয়ে দেন যে, “দেখুন আমি তো মূলত বীরভূম নিয়েই থাকি। বীরভূমে আমার আন্ডারে ১৬৭ টি পঞ্চায়েত এবং বর্ধমানে আমার আন্ডারে ৫৮ টি পঞ্চায়েত রয়েছে। এখন এতগুলো পঞ্চায়েতের মধ্যে কোনও একটা পঞ্চায়েতের প্রধান যদি গ্রামের কোন মানুষের কাছ থেকে ২০০ টাকা নেন তবে সেটাকে দুর্নীতি বলা চলে না।”
তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসার পরেই উঠেছে বিতর্কের ঝড়। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন যে, গ্রামে প্রচুর মানুষের রোজগার দৈনিক ১০০ টাকারও কম। সেখানে একজন পঞ্চায়েত প্রধান যদি কোনও মানুষের থেকে ২০০ টাকা নেন তবে কি সেটা দুর্নীতি বলা চলে না? সেখানে জেলা সভাপতির মত পদে থেকে অনুব্রত এই কথা কি করে বলতে পারলেন? বিরোধী শিবির থেকেও উঠতে শুরু করেছে প্রচুর প্রশ্ন।
যদিও অনুব্রত আছেন অনুব্রততেই। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এইগুলো বিরোধী দল আর প্রেসের চক্রান্ত!





