কিছুদিন আগেই খুইয়ে ছিলেন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা। আর এবার বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদকের পদও হারিয়েছেন তিনি। বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খোলার জন্যই কী এই শাস্তি? প্রশ্ন রয়েছে ঢের। এরই মাঝে এবার তাঁর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জল্পনা জোরালো হল। বীরভূমের তৃণমূল নেতা কাজল শেখ তাঁকে ‘ভালো ছেলে’ বলে প্রশংসায় সেই জল্পনায় যেন আরও স্পষ্ট হল। যদিও অনুপম হাজরা বলছেন যে তিনি হিমালয়ে যাচ্ছেন। সেখান থেকে ফিরেই সব কথা বলবেন তিনি।
কী বলেছেন কাজল শেখ?
অনুপম হাজরা কেন্দ্রীয় পদ হারানোর পর গতকাল, বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন তৃণমূল নেতা কাজল শেখ। তিনি লেখেন, “যদি তুমি সঠিক পথে থাকো, লোকে তোমার সমালোচনা করে তবুও তুমি তাদের গুরুত্ব দিও না। কারণ মনে রেখো খেলায় দর্শকেরা চিৎকার করে। খেলোয়ারেরা নয়। নিজেকে খেলোয়ার মনে কর”।
একইসঙ্গে ইংরাজিতে লেখা এই পোষ্ট কিছুক্ষণ পরেই মুছে দেন। তিনি এরপর সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আগামী বছর বঙ্গবাসীর ভাল কাটুক”।
অন্যদিকে, অনুপম হাজরা প্রসঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “পার্টি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সকলের জন্য। যা ঠিক মনে করেছেন সর্বভারতীয় নেতৃত্ব তা পদক্ষেপ নিয়েছেন। উনি আগেও সমাজমাধ্যমে লিখেছেন। উনি ওঁর বক্তব্য বলতেই পারেন”।
যদিও পদচ্যুত হওয়ার তিন ঘণ্টা পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন বেসুরো হয়েছিলেন অনুপম হাজরা। দলীয় সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে ফেসবুকে লেখেন, শর্ত মেনে চললে তাঁকে নাকি আবার পদ ফিরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বলে রাখি, বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন অনুপম হাজরা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার থেকে শুরু করে দলের মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য, কেউই বাদ যায়নি তাঁর তোপ থেকে। তিনি এও অভিযোগ করেছিলেন যে দলের অনেক কর্মসূচি থেকেই বাদ দেওয়া হয় তাঁকে। ডাকা হয়না বৈঠকে।
সম্প্রতি ব্রিগেডে লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ অনুষ্ঠানে দুর্নীতি নিয়েও মুখ খোলেন অনুপম। গীতাপাঠ অনুষ্ঠানের ভিআইপি পাস হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন জনৈক অনিল সাহা। সেই পোস্টটি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ভাগ করে নিয়ে অনুপম হাজরা লিখেছিলেন, “এটা যদি সত্যি হয় তাহলে তো সাংঘাতিক ব্যাপার! শেষ পর্যন্ত ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’- এখান থেকেও দুর্নীতি, টাকা উপার্জন! হায়রে – এরা আদৌ হিন্দু? অবশ্য সংগঠনের কাছের লোক হলে শত চুরি এবং দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও কোনও পরিবর্তন হবে না, উল্টে মেয়াদকাল আরও বাড়তে পারে! আর কতদিন যে ‘চোর মুক্ত বিজেপি চাই’ বলে গলা ফাটাতে হবে কে জানে!?” এরপরই কেন্দ্রীয় পদ হারালেন অনুপম।





