প্রায় সাড়ে চার মাস হতে চলল বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু দলের হারের কারণ হিসেবে এতদিন পর্যন্ত কোনও পর্যালোচনা বৈঠক করেনি গেরুয়া শিবির। এবার দলবদলুদের নিয়ে বেশি মাতামাতি করাকেই বিজেপির হারের কারণ বলে মন্তব্য করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অনুপম হাজরা।
অনুপমের যুক্তি, “ভুল আমাদেরও ছিলল। তৃণমূল থেকে সুযোগসন্ধানী যে সব নেতারা এসেছিলেন তাঁদের নিয়ে প্রচণ্ড মাতামাতি করেছিলাম। পুরনো কর্মীদের অবহেলাই হয়েছে ভুল”।
“নতুনদের নিয়ে নাচতে শুরু করলে পুরনো কর্মীরা তো বঞ্চিত মনে করবেনই। এটা একটা বড় শিক্ষা হল”, মন্তব্য এই বিজেপি নেতার। তবে তিনি এখানেই থেমে থাকেন নি। তাঁর আরও সংযুক্তি, “আমাদের কয়েকজন রাজ্য নেতারও দোষ ছিল। কেন্দ্রীয় নেতাদেরও… সব মিলিয়ে বলছি, এক কথায় আমাদেরই দোষ। দোষ বা ত্রুটি যাই হোক, এখন অন্তত আর স্বীকার করে নিতে লজ্জা লাগা উচিত নয়”।
কিন্তু হঠাৎ কেন এমন মন্তব্য অনুপমের গলায়?
এর সদুত্তর না মিললেও, বিজেপি নেতার এমন মন্তব্যে যে দলের অন্দরে বেশ হইচই পড়ে গিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। সংবাদমাধ্যমে কেউ মুখ না খুললেও অনেকেই অনুপমের এমন কথায় বেশ মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনের এতদিন পর কেন এমন মন্তব্য করলেন তিনি, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
এদিকে আবার অনুপমের এমন মন্তব্যে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় টিপ্পনী দিয়ে বলেন, “ভালো যে উনি বলেছেন, তবে উনি তো এখন সাংসদ বা বিধায়ক কিছুই নন। উনি তো নিজেই আগে তৃণমূলে ছিলেন। আগে তো অনুব্রত (মণ্ডল) -এর পায়ের কাছে বসে থাকতেন”। এরপর তাঁর আরও মন্তব্য, “অনুপমও তো অরিজিনাল বিজেপি নন”।
বলে রাখি, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরদিনই বিজেপিতে যোগ দেন অনুপম হাজরা। এর আগে তিনি তৃণমূল নেতা ও বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ ছিলেন। দিল্লিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির তৎকালীন পর্যবেক্ষক ও বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের উপস্থিতিতে গেরুয়া পতাকা তুলে নিয়েছিলেন অনুপম। এরপরই ফেসবুক পোস্টে কৈলাস বিজয়বর্গীর সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছিলেন, “এক নতুন শুরু”।
এরপর লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তৃণমূল প্রার্থী মিমি চক্রবর্তীর কাছে হেরে যান অনুপম। পরে অবশ্য বিজেপিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পান তিনি। তবে যার হাত ধরে তিনি বিজেপিতে নতুন শুরু করেছিলেন, সেই মুকুল রায়ই এখন তৃণমূলে।





