‘কখন যে তৃণমূলের সঙ্গে কোটি টাকার ডিল হবে, ধরতে পারবেন না’, ফের বিস্ফোরক অনুপম, বোলপুরে বিজেপির প্রার্থী নিয়ে কটাক্ষ

মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই নির্বাচনের জন্য প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। সেই তালিকায় নাম রয়েছে ১৯৫ জন প্রার্থী। যার মধ্যে বাংলার প্রার্থী ২০ জন। তবে এই প্রার্থী তালিকা নিয়ে যে মোটেই সন্তুষ্ট নন বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা, তা তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই স্পষ্ট।

বিজেপির বাংলার প্রার্থীদের তালিকায় বেশ কিছু তাবড় তাবড় নাম দেখা গেলেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আবার অল্প চেনা মুখদের নামও দেখা গিয়েছে। বোলপুর থেকে প্রার্থী করা হয়েছে প্রিয়া সাহাকে। তাঁর নামে দেওয়াল লিখনও শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই প্রার্থীকে নিয়েই সমস্যা অনুপম হাজরার। তিনি নিজেও একসময় বোলপুরের সাংসদ ছিলেন।  

কী বললেন অনুপম হাজরা?

সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখলেন, “জেতা সিটে দুর্বল প্রার্থী দেওয়ার জন্য শেষ মুহূর্তে কখন যে টিএমসি-র সঙ্গে কোটি টাকার ডিল হয়ে যাবে ধরতেও পারবেন না। অপনি তখন ব্যস্ত, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার্টির হয়ে দেওয়াল লিখতে”! তাঁর এই পোস্ট নিয়েই শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে এই বোলপুর কেন্দ্র থেকেই জিতে সাংসদ হয়েছিলেন অনুপম হাজরা। যদিও তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন তিনি। এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। সেই বছর বোলপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী করে রাম প্রসাদ দাসকে। যদিও তৃণমূলের অসিত কুমার মালের কাছে পরাজিত হন তিনি। ২০১৯ সালে অনুপম বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হন যাদবপুর কেন্দ্র থেকে কিন্তু সেখানে তৃণমূল প্রার্থী মিমি চক্রবর্তীর কাছে হেরে যান তিনি।

উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে অনুপম হাজরার। বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বকে বারবার তোপ শানিয়েছেন তিনি। তাঁকে বিজেপি সর্বভারতীয় সম্পাদকের পদ থেকে সরানো হয়েছে। প্রত্যাহার করা হয়েছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাও।

বোলপুরে তৃণমূল নেতৃত্বকে নিয়ে বারবার অভিযোগ করেছেন অনুপম। জল্পনা ছিল, হয়ত বোলপুরের কেন্দ্র অনুপমকে প্রার্থী করতে পারে বিজেপি। কিন্তু তা হল না। সেই কারণেই কী এমন বিস্ফোরক পোস্ট করলেন অনুপম? প্রশ্ন ওয়াকিবহাল মহলের। বলে রাখা ভালো, বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ায় অনুপমের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার গুঞ্জনও উঠেছিল। তবে সেই গুঞ্জন নাকোচ করে দেন তিনি। এবার বিজেপি নেতা কী করেন, এখন সেটাই দেখার!  

RELATED Articles