‘আমার নানান শারীরিক সমস্যা, বিবেচনা করুন’, কেঁদে ফেললেন অনুব্রত, আর্জি খারিজ করেই কেষ্টকে ১০ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বেশ ধুন্ধুমার কাণ্ড রাজ্যে। গরু পাচার কাণ্ডে (cattle smuggling case) সিবিআইয়ের (CBI) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)। এদিন গ্রেফতারির পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কুলটিতে সিবিআইয়ের একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে। সেখান থেকে বিকেলে অনুব্রতকে তোলা হয় আসানসোলের বিশেষ আদালতে (Asansol Court)।

জানা গিয়েছে, এদিন এজলাসে অনুব্রতর আইনজীবী তাঁর জামিনের জন্য আবেদনই করেন নি। অনুব্রত নিজেই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারককে নিজের সমস্যার কথা জানিয়ে আর্জি জানান। অনুব্রত কাঁদো কাঁদো গলায় বলেন, “আমার নানান শারীরিক সমস্যা রয়েছে। একটু বিবেচনা করে দেখুন”।

কিন্তু এদিন তাঁর এই আর্জিতে সারা দেয়নি আসানসোল আদালত। সিবিআই ১৪ দিনের হেফাজত চেয়েছিল আদালতের থেকে। তবে অনুব্রতকে ১০ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ২০শে আগস্ট পর্যন্ত সিবিআই হেফাজতে থাকবেন অনুব্রত মণ্ডল। জানা গিয়েছে, আজ রাতেই অনুব্রতকে আসানসোল থেকে কলকাতা নিয়ে আসা হবে।

প্রসঙ্গত, আজ, বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেফতারির পর অনুব্রতকে নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম বর্ধমানের শীতলপুর গেস্ট হাউসে। সেখানে সিবিআইয়ের গেস্ট হাউসে রাখা হয় তাঁকে। ইসিএল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকরা এসে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এরপর তাঁকে তোলা হয় আসানসোল আদালতে।

এদিন আদালত চত্বরে সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন বাম-বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। আদালতে অনুব্রতকে দেখেই তারা ‘চোর চোর’ রব তোলেন। ক্রমেই বেড়ে যায় স্লোগানের ঝাঁঝ। কেউ কেউ আবার অনুব্রতর দিকে জুতোও তাক করেন। তবে জুতো ছুঁড়ে মারা হয়নি তাঁকে।

বলে রাখি, গতকাল, বুধবার দশমবার অনুব্রতকে গরু পাচার মামলায় তলব করেছিল সিবিআই। কিন্তু সেই হাজিরাও এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এর জেরে আজ, বৃহস্পতিবার সকালেই অনুব্রতর বোলপুরের বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই। চলে তল্লাশি। এদিনও অনুব্রত তদন্তকারী আধিকারিকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। এরপরই গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল নেতাকে। গরু পাচার কাণ্ডের চার্জশিটে অনুব্রতর নাম উল্লেখ রয়েছে বলে জানান সিবিআই আধিকারিকরা।

RELATED Articles