গতকাল জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পে ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করে বলেছিলেন, কোন খাতে কত আর্থিক সাহায্য, তা ঘোষণা করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বুধবার বিকেলে প্রথম দফার সাংবাদিক বৈঠক করেন নির্মলা। তারপরই কেন্দ্রের আর্থিক প্যাকেজকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হচ্ছে। বললেন, ‘রাজ্যের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে কেন্দ্র। লকডাউনের নামে রাজ্যগুলিকে লকআউট করার চেষ্টা হচ্ছে।’
মুখ্যমন্ত্রী এই প্যাকেজ কে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন ‘প্যাকেজ নিয়ে টোটালটাই বিগ জিরো। ভেবেছিলাম রাজ্যগুলি কিছু পাবে। কেন্দ্রের প্যাকেজ আদতে অশ্বডিম্ব। রাজ্যগুলিকে কিছুই দেয়নি কেন্দ্র। বিপদে পড়া মানুষ গুলোকে নগদও দেওয়া হল না। স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে কোনও পদক্ষেপ নেই। কর্মসংস্থানের কথাও বলা হল না। করোনা মোকাবিলার বরাদ্দ কোথায়? আসলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কিছুই দেওয়া হয়নি। বাংলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ৯০ হাজার কোটি। ৯০ হাজার কোটি আগেই দিয়েছে রাজ্য সরকার।’
কেন্দ্রের প্যাকেজকে আইওয়াশ বলেও বিদ্ধ করেন তিনি। প্রশ্ন তোলেন ‘দুর্ভোগের সময় মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা। কেন কৃষিঋণ মকুব করা হল না? বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হচ্ছে? আয়কর রিটার্নের সময়সীমা বৃদ্ধি প্রত্যাশিত। টাকা নেই, রাজ্যগুলি চলবে কী করে? রাজ্যের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে কেন্দ্র। লকডাউনের নামে রাজ্যগুলিকে লকআউট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন অ্যাড হক বোনাস বেড়ে ৪ হাজার ২০০ টাকা। উৎসব অগ্রিম বেড়ে ১০ হাজার টাকা। এ জন্য বাড়তি ৪০০ কোটি টাকা খরচ হবে। কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্যের মানবিক মুখ তুলে ধরতে ভোলেননি তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন ১৫% টাকা পাবে জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতি। গ্রামীণ এলাকায় ১০ লক্ষ বাড়ি তৈরি হবে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশ্বব্যাঙ্কের ৫ হাজার কোটি টাকা। ৫০ হাজার একর জমিতে পরিবেশ বান্ধব প্রকল্প। নতুন প্রকল্পের নাম মাটির সৃষ্টি। সাড়ে ৬ হাজার একর জমিতে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু। ৫০ হাজার একর রুক্ষ জমিতে নতুন প্রকল্প। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, পঃ বর্ধমান, পঃ মেদিনীপুরে নতুন প্রকল্প। ওই জমিতে মাছচাষ, পশুপালন-সহ হবে একাধিক প্রকল্প। সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নিয়ে সমবায় সমিতি তৈরি হবে।
রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন বাইরে থেকে অনেক বেশি মানুষ রাজ্যে ফিরছে। ৪টি গ্রিন জোন অরেঞ্জ হয়ে গিয়েছে। অরেঞ্জ জোনগুলিকে গ্রিন জোনে ফেরানোর চ্যালেঞ্জ রয়েছে। লকডাউন ওঠার পর প্রত্যেক জেলায় বিশেষ সমীক্ষা করা হবে। প্রতিটি জেলায় সেন্টিনেল সার্ভে করা হবে। দেশের মধ্যে প্রথম রাজ্য হিসেবে এই পদক্ষেপ নেবে পশ্চিমবঙ্গ।
সেই সঙ্গে জানিয়েছেন আত্মনির্ভর হয়েছি, কাজে প্রমাণ দিয়েছি। আগে থেকেই কাজে নিয়োজিত স্বনির্ভর গোষ্ঠী। ৪৫ লাখ মাস্ক, ৭.৫ লাখ পিপিই তৈরি করা হয়েছে। রাজ্যে ১৩.২ লাখ শ্রমদিবস তৈরি হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতার পর অর্থনীতি তলানিতে যেতে পারে। ২.৬ লক্ষ লিটার স্যানিটাইজার তৈরি করা হয়েছে। একদিনে আমরা ৩টি নতুন জিনিস দিলাম। রাজ্যগুলিকে অর্থনৈতিকভাবে সর্বনাশ করে দেশ দাঁড়াবে? রাজ্যগুলি হল দেশের অগ্রগতির স্তম্ভ।





“আগে হিন্দু, তারপর বাঙালি…যে রক্ষা আমাদের রক্ষা করবে, আমি তাদের দলে” “আমি হিন্দুস্থান চাই” বাংলায় পদ্মফুলের উত্থানেই খুশি অভিজিৎ ভট্টাচার্য! বিজেপির সাফল্যের পর খুললেন মুখ! গায়কের মন্তব্যে তোলপাড় নেটদুনিয়া!