মাধ্যমিকের টেস্ট পেপারে ইতিহাসের প্রশ্নপত্রে প্রশ্ন রয়েছে ‘আজাদ কাশ্মীর’ নিয়ে। মালদহের স্কুলের প্রশ্নপত্রে এমন প্রশ্ন নিয়ে তুমুল বিতর্ক দানা বাঁধে। এই ঘটনায় সরকারি পাঠ্যপুস্তকের দিকেই আঙুল তুলেছে মালদহের রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দির কর্তৃপক্ষ।
আজ, মঙ্গলবার ওই বিদ্যামন্দিরের প্রধান শিক্ষক স্বামী তপহারানন্দ মহারাজ বলেন, “ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে আজাদ কাশ্মীর বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। সেই সরকারি পাঠ্যপুস্তক থেকেই মানচিত্রে জায়গাটি চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে”। বিজেপির দাবী, ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিতর্ক উস্কে দিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার বলেন, “রাজ্য সরকারের একটা তোষণ মনোবৃত্তি আছে। এটা তারই ন্যারেটিভ হয়তো”। অন্যদিকে, পর্ষদের এই নিয়ে স্পষ্ট বার্তা যে কারোর ভাবাবেগে আঘাত করা হয়নি। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পর্ষদের নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাধ্যমিকের টেস্ট পেপারে ১৩২ নম্বর পৃষ্ঠায় একটি প্রশ্নের চারটি অপশনের মধ্যে একটি অপশন ছিল ‘আজাদ কাশ্মীর’ নামে। ওই পৃষ্ঠায় একটি প্রশ্ন ছিল যে প্রদত্ত ভারতবর্ষের রেখা মানচিত্রে নিম্নলিখিত স্থানগুলো চিহ্নিত বা নামাঙ্কিত কর। এই প্রশ্নের প্রথমটিতে উত্তর হিসেবে লেখা ‘আজাদ কাশ্মীর’। সরকারি পাঠ্য বইয়ে এমন বিতর্কিত ‘আজাদ কাশ্মীর-এর উল্লেখ কেন করা হয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক।
রাজ্যের নানান স্কুল থেকে সংগৃহীত প্রশ্নপত্রগুলি নিয়ে ছাপা হয় টেস্ট পেপার। ইতিহাসের এই প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক উঠতেই তা কোন স্কুলের প্রশ্নপত্র, তা জানার জন্য তদন্ত শুরু হয়। পর্ষদ সূত্রে জানা যায় যে ওই প্রশ্নপত্রটি মালদহের রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের। এরপরই মালদহের মধ্যশিক্ষা পর্ষদ থেকে যোগাযোগ করা হয় সেই স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে।
এই বিষয়ে মালদহের রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের প্রধান শিক্ষক স্বামী তপহারানন্দ মহারাজ বলেন, “আমাদের প্রশ্নপত্র নিয়ে একটা বিতর্ক হয়েছে। যিনি প্রশ্নপত্রটি করেছেন তাঁর সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তিনি যেটা বলেছেন, সেটাই আমি বলছি। এখানে বইতে যে তথ্য রয়েছে সেই তথ্যই প্রশ্নপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। যে প্রশ্নটা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, সেটি ইতিহাসের একটা অংশ। সিলেবাস থেকেই প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি বইতে ওরকম ধরনের উল্লেখ আছে। পরীক্ষায় ম্যাপ পয়েন্টিং থাকে। সেখানে এমন একটা জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে, সেই জায়গাটাকে ভারত সরকার মান্যতা দেয় না। ‘আজাদ কাশ্মীর’টা কিন্তু পাঠ্যপুস্তক থেকেই উল্লেখ করা হয়েছে”।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক এই বিষয়ে বলেন, “মাস দেড়েক আগে ইতিহাসের টেস্ট পরীক্ষা হয়েছে। পর্ষদ থেকে ফোন এসেছিল। প্রশ্নপত্রটা দেখতে চেয়েছেন। আমরা সেই প্রশ্নপত্রটি পাঠিয়ে দিয়েছি”। পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, “যারা টেস্ট পেপার তৈরি করেন, তাঁদের বলেছি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে। তবে কোনও স্কুলের স্বায়ত্বশাসনে আমরা হস্তক্ষেপ করি না। এক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে”।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্য়েই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার বলেন, “রাজ্য সরকারের একটা তোষণ মনোবৃত্তি আছে। এটা তারই ন্যারেটিভ হয়তো। নাহলে ভারত সরকারে যাকে মান্যতা দেয় না, সেই আজাদ কাশ্মীর কেন বইতে জায়গা পাবে”?
যদিও তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবী, “কী কারণে কেন আজাদ কাশ্মীরের উল্লেখ করা হয়েছে, তা না জেনে মন্তব্য করব না। তবে আজাদ কাশ্মীর বলে কিছু নেই। কাশ্মীর তো ভারতেরই”।






