“যেরকম পরিস্থিতির জন্য রাষ্ট্রপতি শাসনের দরকার, সেই সব পরিস্থিতিই পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে” কটাক্ষ বাবুলের, পাল্টা জবাব সৌগত রায়ের

ফের একবার রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করে তোপ দাগলেন বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। তার মতে, পশ্চিমবঙ্গে ৩৬৬ ধারা অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি শাসন চালু হওয়া দরকার। বর্তমানে রাজ্যের যা পরিস্থিতি তা সামাল দিতে এই পদক্ষেপ করা উচিত। তাছাড়া, কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাস্নের প্রয়োজন হয়, সেই সবরকম পরিস্থিতিই পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান।

সম্প্রতি দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বাবুল সুপ্রিয় রাজ্য সরকারের প্রতি তার ক্ষোভ উগড়ে দেন। বিজেপির ‘নবান্ন চলো’ অভিযানে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। এই অভিযানে এক বিজেপি নেতার দেহরক্ষী বলবিন্দর সিং-এর কাছ থেকে পুলিশ উদ্ধার করে একটি আগ্নেয়াস্ত্র।এই ঘটনায় তার পাগড়ি খুলে যাওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে তুলকালাম কাণ্ড। বাবুলের মতে, রাজ্যের পুলিশ ইচ্ছে করেই বলবিন্দর সিংকে আলাদা করে একা নিয়ে গিয়ে তার উপর অত্যাচার চালায় ও আগ্নেয়াস্ত্রটি নেওয়ার চেষ্টা করে। কোনওরকম ধ্বস্তাধস্তির জেরে তার পাগড়ি খোলেনি বরং পুলিশের অত্যাচারের জেরেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর ফলে একটি ধর্মকে অপমান করা হয়েছে বলে তিনই মনে করেন।

এছাড়াও, কয়েকদিন আগে মুর্শিদাবাদ থেকে ৬জন আল কায়দা জঙ্গির গ্রেফতার প্রসঙ্গেও কথা বলেন বাবুল সুপ্রিয়। তার মতে, “তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক নেত্রী যিনি সিপিআইএম-এর জামানায় লড়াকু মনোভাব নিয়ে লড়ে গেছে, কতবার তাকে হেনস্থা করা হয়েছে, তাও তিনি আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন। সে রকম নেত্রীর থেকে এই ধরণের আচরণ আশা করা যায় না”। বিজেপি নেতা মণীশ শুক্ল-র হত্যাকাণ্ড নিয়েও প্রশাসনকে দেগেছেন তিনি। এরপরই তার দাবী, পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন চালু করা হোক কারণ বর্তমান যা অবস্থা তাতে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন চালু করার সবরকম পরিস্থিতিই রয়েছে।

বাবুলের এই মতবাদের বিরোধিতা করেছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। বাবুলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বাবুল রাজনীতিতে নতুন। হঠাৎ করে মুম্বই থেকে উড়ে এসে রাজনীতিতে এসেছেন। ২০১৪ সাল থেকে রাজনীতি করছেন। তিনি সংবিধান পড়েননি। কী পরিস্থিতি হলে তবে কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন বহাল হয়, সে সম্পর্কে তার ধারণা নেই। শুধুমাত্র ৬জন জঙ্গি উদ্ধার হয়েছে বা মণীশ শুক্ল-এর মতো একজন ‘বাহুবলি’ বিজেপি নেতা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দের কারণে খুন হয়েছেন বলে রাষ্ট্রপতি শাসন চালু করা যায় না। আসলে উনি নিজে প্রচারে থাকার জন্যই এই সমস্ত অবাস্তব কথা বলছেন”।

RELATED Articles