‘অনেকেই বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু…’, কেন শোভনের সঙ্গেই সম্পর্কে জড়ালেন বৈশাখী? খোলসা করলেন এতদিন পর

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় (Baisakhi Bandopadhyay) ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে জল ঘোলা কম হয়নি। ‌ সংবাদের পাতায় বৈশাখীর প্রেমিক সত্তা বারবার বেরিয়ে এসেছে তা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে বহুবার। ‌ প্রেমিকার বাইরে ও তিনি একজন মা। ‌ তিনি বলেছেন প্রত্যেক মায়ের ইচ্ছা মেয়ে ডানা মেলে উড়ুক কিন্তু তারা একরত্তি নিষ্ঠুরতা দেখেছে। ‌ মেয়ের জন্যই দাম্পত্যের আরো একবার সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন তবে বৈশাখী বুঝেছেন, “স্বার্থপর পুরুষ খারাপ স্বামী তো বটেই, বাবা হিসাবেও তারা খারাপ হয়।” বর্তমানে পড়াশোনা, পুতুল নিয়ে ব্যস্ত বৈশাখের মেয়ে মহুল।

প্রাক্তন স্বামীকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বৈশাখী (Baisakhi Bandopadhyay) বলেছেন, “মারধর খাওয়ার পরে সেই পুরুষের সঙ্গে বিছানায় যাওয়ার মতো গ্লানি আর কিছুতে নেই”। সেই দিনগুলি নিজের চোখে দেখেছে ছোট্ট মহুল। বৈশাখী (Baisakhi Bandopadhyay) জানিয়েছেন, “মহুলের বাবা বলেছিল, ‘আগে ডিএনএ টেস্ট করা, তার পরে তো বুঝব আমি বাবা’। নিজের মাতৃত্ব সত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বৈশাখী বলেছেন, “আমি খুব ভাল মা নই। ব্যক্তি স্বাধীনতার কথা ভেবে অনেক সময় হিংস্র ভাবে লড়তে গিয়েছি। ভাবিনি সেই ঘটনার প্রভাব মেয়ের উপরে পড়বে।”

বৈশাখীর (Baisakhi Bandopadhyay) মেয়ে মহলের স্বপ্ন দেশ ডিজনিল্যান্ডে ঘুরতে যাওয়ার। মেয়ের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে বাবার মত বাধ্যতামূলক, তাই মেয়ের পাসপোর্ট আটকে দেন প্রাক্তন স্বামী। ‌ চোখে জল নিয়ে পাসপোর্ট অফিস থেকে ফিরে আসতে হয়েছিল মহুলকে। পরে ফোন করে বাবার কাছ থেকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চাইলে মনোজিৎ উত্তর দিয়েছিল, “কেন তোমার মায়ের তো খুব ক্ষমতাশালী সঙ্গী আছে। দেখি কী করে আমার স্বাক্ষর ছাড়া পাসপোর্ট জোগাড় করে!”

বৈশাখী (Baisakhi Bandopadhyay) বলেছেন অনেকেই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল তবে কেউ মেয়েকে একসঙ্গে মানুষ করার আশ্বাস দেননি। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “প্রথম যে দিন শোভনের সঙ্গে থাকতে শুরু করি শোভন বলেছিল, ‘মহুলকে নিয়ে এস'”। তবে শোভন কে বাবা ডাকতে শেখাননি। তারা একে অপরকে দুষ্টু বলে ডাকে। বৈশাখী (Baisakhi Bandopadhyay) বলেছেন, শোভনের ছেলে আমাকে এক বার জিজ্ঞেস করেছিল, ‘তোমার মেয়ে আমার বাবাকে ‘দুষ্টু’ বলে ডাকে কেন? ড্যাড বলে না কেন?’ বৈশাখী উত্তর দিয়েছিলেন, “ও মহুলের ড্যাড নয়, কেনই বা ডাকবে!”

চাকরি ছাড়লেও মহুলের পড়াশোনার সব দায়িত্ব নিজেই সামলান বৈশাখী (Baisakhi Bandopadhyay)। মায়ের কাছে পড়তে বসতে মেয়ে ভয় পায়‌ মহুল। বৈশাখীর (Baisakhi Bandopadhyay) মতে, “ওর বাবা ইংরেজি অধ্যাপক অথচ মেয়ে কোন ক্লাসে পড়ে সেটা জানে না! এ দিকে ‘ভিজিটিং রাইট’ ছাড়ছে না!” মেয়ে একদিন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। বাড়িতে ছিলেন না মহলের বাবা মনোজিৎ। যাওয়ার আগে স্পষ্ট বলেছিলেন, ‘ন্যাকামি করে ফোন করবে না আমাকে!’ মেয়ের অসুস্থতায় এক প্রকার বাধ্য হয়ে অসুস্থ স্বামীকে ফোন করলে, প্রাক্তন স্বামী বলেছিলেন, “মেয়ে কি মরে গিয়েছে!”

বৈশাখীর (Baisakhi Bandopadhyay) মেয়ে ট্রোলিং এর হাত থেকে রেহাই পায়নি। মায়ের জীবনে নতুন মানুষ আশায় সেই ট্রোলিংয়ের ঝড় বইছে মেয়ের মধ্যেও। একবার বৈশাখী (Baisakhi Bandopadhyay) মেয়েকে জিজ্ঞেস করেছিল, “বল তো আমি জীবনে কাকে সব থেকে বেশি ভালবাসি?” মেয়ের উত্তর দিয়েছিল “তুমি দুষ্টুকে সবার থেকে বেশি ভালবাস।” মেয়ের কথা শুনে মনে হয় আঘাত পেয়েছিলেন বৈশাখী। মেয়ে বলেছিল, “মা তুমি আমাকে ছেড়ে থেকেছ, কিন্তু দুষ্টুকে ছাড়া থাক না”।

মেয়ের থেকে দূরে থাকতে হলে কি করবেন বৈশাখী (Baisakhi Bandopadhyay) এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, “মেয়ে ছেড়ে যেতে চাইলে আমি কখনও আটকাব না”। তিনি আরও বলেন, “মহুল তার মাকে কী ভাবে দেখে সেটা আমি জানি না। কিন্তু মার সঙ্গে কেউ একটু খারাপ ভাবে কথা বললে মহুলের কাছে সে খারাপ।”

RELATED Articles