‘স্নেহের পরশ’ প্রকল্পের টাকা কি আদতে কেন্দ্রই দিচ্ছে? একটি মোবাইল বার্তা কে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি! দু’দিন আগে এই আক্রমণই হেনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘স্নেহের পরশ’ প্রকল্পের বিরুদ্ধে। বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারির অভিযোগ ছিল এই প্রকল্পের ৭৫% টাকাই দিচ্ছে কেন্দ্র যা ঘুরিয়ে নাম কিনছে রাজ্য। আর আজ মুখ্যমন্ত্রীকে ‘স্টিকার দিদি’ আখ্যা দিয়ে তাঁর বিভিন্ন প্রকল্প গুলির সোশ্যাল সাইটে সমালোচনা করে এই প্রকল্পগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদানের বিষয়ে লিখলেন এই বঙ্গ বিজেপি নেতা।
তরুণজ্যোতি তিওয়ারি দাবি করেন যে, ‘মুখ্যমন্ত্রীর খাদ্যসাথী প্রকল্পের চাল আসে NFSA (National Food Security Act) এর অধীনে। এই অ্যাক্ট-এর অধীনে বেশিরভাগ টাকাটাই ভর্তুকি দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। আর মাননীয়া সেটি নিজের নামে চালান।’
সেই সঙ্গে তার অভিযোগ ‘বাংলার গ্রামীন সড়ক যোজনার বেশিরভাগ টাকাও কেন্দ্রীয় সরকারই দেয় এবং এই প্রকল্পের নাম হল প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনা। মাননীয়া স্টিকার লাগিয়ে নাম করেছেন বাংলার গ্রামীণ সড়ক যোজনা।’ কারণ এই প্রকল্প-এ ৬০% টাকা কেন্দ্রীয় সরকার বহন করে এবং ৪০% টাকা রাজ্যকে বহন করতে হয়।
এই বিজেপি নেতা আরও বলেছেন যে, ‘ভারতের প্রত্যেকটা মানুষ যাতে নিজের বাড়ি পায় সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা চালু করেন। গ্রামীণ ক্ষেত্রে নাম পাল্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করে দেন বাংলার গৃহ প্রকল্প।’
তাঁর তীর্যক মন্তব্য উড়ে আসে মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পের দিকেও। তরুণজ্যোতির কথায় ‘মাননীয়ার অত্যন্ত পছন্দের প্রকল্প এটি। কিন্তু এটাও সেই স্টিকার প্রকল্পই। আসল প্রকল্পটি হল স্বচ্ছ ভারত মিশন। এই যোজনার সিংহভাগ টাকাও কেন্দ্র দেয় কিন্তু মাননীয়া এখানেও স্টিকার লাগাতে ব্যস্ত।’
মুখ্যমন্ত্রীর স্টিকার লাগানো প্রসঙ্গে আরও তিন প্রকল্পের উল্লেখ করেন এই বিজেপি নেতা। সেগুলি হলো আনন্দধারা প্রকল্প, সবার ঘরে আলো এবং ১০০ দিনের কাজ।
আনন্দধারা প্রকল্প প্রসঙ্গে তরুণজ্যোতির বক্তব্য ‘মাননীয়া গ্রামীণ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য এই প্রকল্প চালু করেছেন। খুব ভালো, কিন্তু মানুষের কাজ করতে গেলে স্টিকার লাগানো কি দরকার। এই প্রকল্পের আসল নাম হল আজীবিকা (National Rural Livelihood Mission)’।
সবার ঘরে আলো প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন ‘দিন দয়াল উপাধ্যায় গ্রাম জ্যোতি যোজনা আসল নাম এই প্রকল্পের। কিন্তু এখানে আবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার নাম পাল্টে ফেলেছেন।’
মুখ্যমন্ত্রীর ১০০ দিনের কাজকেও রেয়াত করেননি এই নেতা। তিনি বলেছেন ‘এটি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্প। তাও যদি মাননীয়া ঠিকঠাক চালাতেন এই রাজ্যে।’
যদিও এই প্রকল্পগুলির বিষয়ে রাজ্যের শাসক দলের নেতাদের প্রশ্ন করা হলেও তারা কেউই উত্তর দিতে চাননি।





