রাজ্যের বিরুদ্ধে ফের সরব রাজ্যপাল! মুখ্যমন্ত্রীকে কুমিরের কান্না বন্ধ করতে নির্দেশ তাঁর!

আবার‌ও রাজ্যের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankar)।গতকাল অর্থাৎ সোমবার কৃষিবিল (Farm Bill) নিয়ে নবান্নে কেন্দ্রের তুমুল সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bandopadhyay)। আর আজ সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন বাংলার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বললেন কুমিরের কান্না কাঁদলে কৃষকদের (farmers) দুর্দশা ঘুচবে না। একইসঙ্গে অভিযোগ করলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নীতির কারণেই প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির ৮৪ হাজার কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ৭০ লক্ষ কৃষক। রাজ্য সরকার (west Bengal Government) ঝামেলা না পাকালে এতদিনে প্রত্যেক কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১২ হাজার টাকা করে জমা পড়ত।

https://twitter.com/jdhankhar1/status/1308291076323598336?s=20

রাজ্য সরকারকে এক হাত নিয়ে রাজ্যপাল তিনটি টুইট করেছেন। প্রথম টুইটে অ্যাটাচ করেছেন একটি চিঠি। কি সেই চিঠির বিষয়বস্তু? ডিয়ার চিফ মিনিস্টার বলে সম্বোধন করে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের গড়িমসি ও অকর্মণ্যতার জন্য ৭০ লক্ষ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির সুবিধা পাননি। রাজ্য সরকার যদি যথাসময়ে উদ্যোগ নিত, তাহলে কৃষকদের জন্য আসত ৮৪ হাজার কোটি টাকা। প্রত্যেক কৃষক তা থেকে ১২ হাজার টাকা করে পেতেন।

https://twitter.com/jdhankhar1/status/1308291581590478853?s=20

জগদীপ ধনকড় আর‌ও লিখেছেন, এই প্রকল্পের পুরো খরচ বহন করে কেন্দ্রীয় সরকার। অর্থাৎ এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে গেলে রাজ্য সরকারের ওপরে বাড়তি ব্যয়ভার চাপত না। এই প্রকল্পের ব্যাপারে গড়িমসি করার কোনও কারণই থাকতে পারে না। রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে রাজ্যপাল লিখেছেন, সারা দেশের কৃষকরা প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি থেকে সুবিধা পেয়েছেন। বঞ্চিত হয়েছেন কেবল পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা।

রাজ্যপালের মতে, এখানেই শেষ নয়। অন্যান্য প্রকল্পের সুবিধা থেকেও এই রাজ্যের কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি লিখেছেন, কোভিড অতিমহামারীর সময় কেন্দ্রীয় সরকার ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। রাজ্য সরকার যদি যথাসময়ে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির সুবিধা নিত, তাহলে ওই প্যাকেজ থেকেও ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি পেতে পারতেন এরাজ্যের কৃষকরা।

চিঠির শেষাংশে লিখেছেন আমরা মনে করি, কৃষকরা আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তাঁরা যদি রাজ্য সরকারের অকর্মণ্যতার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাহলে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তাভাবনা করা উচিত।

RELATED Articles

Leave a Comment