একচিলতে একটা দোকান তাও বেড়া দিয়ে কোনওরকমে ঘেরা। সেই দোকানেই লোকের চুল, দাড়ি কাটেন তিনি। যা রোজগার হয়, তার থেকে সামান্য টাকা আলাদা করে রেখে লটারির টিকিট কিনতেন তিনি। দিন বদলের স্বপ্ন দেখতেন তিনি। এবার সেই স্বপ্নই সফল হল। এক টিকিটেই কোটিপতি হয়ে গেলেন নাপিত রবিউল শেখ।
এমন ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদের ডোমকলের পার রঘুনাথপুর মালিপাড়া গ্রামে। সেখানকার বাসিন্দা রবিউল শেখ ওই এলাকাতেই বেড়া দিয়ে ঘিরে কিছু সরঞ্জাম নিয়ে একটি সেলুন চালান। কোনও আধুনিকতার ছোঁয়া নেই সেই দোকানে। খুবই সাধারণ একটি সেলুন।
জানা গিয়েছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর অভ্যাসমতোই একটি লটারির টিকিট কাটেন তিনি। সেই টিকিটই যে তাঁর ভাগ্য বদলে দেবে, তা বুঝতেও পারেন নি রবিউল। রাতে খবর পান যে লটারিতে কোটি টাকা জিতেছেন তিনি। তা শুনে যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না রবিউল। বারবার নম্বর মিলিয়ে দেখছিলেন। যখন বুঝতে পারেন সত্যিই কোটিপতি হয়েছেন তিনি, তড়িঘড়ি থানায় ছোটেন তিনি।
রবিউল জানান, গত তিন বছর ধরে লটারির টিকিট কাটছেন তিনি। রোজগার সামান্য হলেও তা থেকেই আলাদা করে টাকা রেখে লটারির টিকিট কিনতেন। বারবার বিফল হয়েছেন কিন্তু হাল ছাড়েন নি। লটারির টিকিট কাটা যেন তাঁর কাছে নেশার মতো হয়ে গিয়েছিল।
স্থানীয়দের কথায়, রবিউল খুবই গরীব। সেলুনের সামান্য উপার্জন দিয়েই সংসার চলে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচও চলে ওই আয়েই। টিকিট কাটা নিয়ে পরিবারে অশান্তি চললেও, এখন সেই লটারির টিকিটই ভাগ্য বদলে দিল রবিউলের।





