প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছিল তৃণমূলের বীরভূমের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি বিভাস অধিকারীর (Bivas Adhikari)। তাঁর সম্পত্তির খতিয়ান চেয়ে পাঠায় সিবিআই। একাধিকবার নিজাম প্যালেসে হাজিরা দিয়েছেন তিনি। এবার তৃণমূল ছাড়লেন বিভাস অধিকারী। আর এরপরই নিজের পুরনো দলকে তুলোধোনা করলেন তিনি।
কলকাতা প্রেস ক্লাবে এবার নিজের দল ‘অল ইন্ডিয়া আর্য মহাসভা’র ইস্তেহার প্রকাশ করলেন তিনি। সেখান থেকেই নিজের আগের দল তৃণমূলকে তীব্র তোপ দাগেন বিভাস অধিকারী (Bivas Adhikari)। বলেন, “আমার আশ্রমে কৈলাস বিজয়বর্গীয় আসতেন। তাই আমাকে ঢাল করে বাঁচার চেষ্টা করেছিল দল। যাতে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তকারীরা দলের লোকজনকে না ধরতে পারে”।
তাঁর (Bivas Adhikari) আরও দাবী, “দলের মধ্যেই কেউ কেউ চক্রান্ত করেছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি এবং সিবিআই খারাপ কাজ করেছে আমি বলব না। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছিল। কিছু পাইনি সেটা আলাদা ব্যাপার। কিন্তু দলের ভেতর থেকেই আমাকে কথা বলতে দেওয়া হতো না”।
এরপরই বীরভূমের তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের নাম না করেই বিভাস অধিকারী (Bivas Adhikari) বলেন, “আমি যখন দলের ভিতরে ধর্ম বিষয়ক কিছু বলার চেষ্টা করতাম,তখন আমাকে বারবার বাধা দেওয়া হয়েছে। আমাকে ধর্ম সংক্রান্ত কোনও কিছু দলের মধ্যে বলতে দেওয়া হত না। সব সময় মুখ আটকে রাখা হয়েছে। আমি কারোর নাম এখন বলতে চাই না। তবে আমি দল থেকে সেই কারণেই বেরিয়ে এসেছি। দুর্নীতি এবং অপরাধ করেছে বলেই কেউ কেউ এখন জেলের ভিতরে। ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেও কোনও সুবিধা করতে পারিনি কেউ কেউ। আমি যা বলার স্পষ্ট বলেছি”।
প্রসঙ্গত, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ায় বিভাস অধিকারীর (Bivas Adhikari)। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য গ্রেফতার হওয়ার পরই এই মামলায় নাম জড়ায় বিভাসের। তিনি মানিকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে জানা যায়। গত বছরের এপ্রিল মাসে বিভাস অধিকারীর বাড়ি ও আশ্রমে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথি উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এরপরই তাঁকে বেশ কয়েকবার নিজাম প্যালেসে তলব করেছিল সিবিআই। হাজিরাও দিয়েছেন তিনি। এবার নিজের আলাদা দল গড়লেন বিভাস অধিকারী (Bivas Adhikari)।






