ইতিমধ্যেই বাংলায় চার দফার ভোট হয়ে গিয়েছে। বাকী এখনও চার দফার ভোট। এই বাকী চার দফার জন্য প্রচারে নতুন কৌশল আনল গেরুয়া শিবির। জনসভার সংখ্যা কমিয়ে এবার রোড শো-এর দিকে বেশি নজর দেবে বিজেপি, এমনটাই জানা গিয়েছে।
বিজেপির মতে, জনসভার থেকে রোড শো-এর মাধ্যমে অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছনো যায়। তাই বিজেপির থিঙ্কট্যাঙ্কের তরফে স্থির করা হয়েছে, এবার থেকে বেশি রোড শো করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডারা। তবে নিরাপত্তার বিধি মেনে রোড শো করবেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাই জনসভায় তিনিই থাকবেন মধ্যমণি। অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্বরা কখনও পায়ে হেঁটে বা কখনও ট্যাবলোতে সারবেন রোড শো।
আরও পড়ুন- কোচবিহারে যা হয়েছে, তা দিদির ছাপ্পা ভোটের ষড়যন্ত্রের অংশ, মমতাকে লাগামছাড়া আক্রমণ মোদীর
আগামী ১৭ই এপ্রিল পঞ্চম দফার ভোট। বিজেপির মতে, রোড শো করলে মানুষ অনেক কাছে চলে আসে। নেতাদের নাগালের মধ্যে পেলে অনেকেই প্রভাবিত হবেন। এই কারণেই রোড শো বেশি করতে চাইছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই, রুদ্রনীল ঘোষের সমর্থনে গলি গলি ঘুরে ভোট প্রচার করেছেন অমিত শাহ। বৈশালি ডালমিয়ার হয়েও ভোট রোড শো করেছেন জে পি নাড্ডা। চলতি সপ্তাহেই বেশ কয়েকটি রোড শো করবেন বিজেপি নেতৃত্বরা।
দলের নতুন এই কৌশলের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডাও। তিনি বলেন, “জনসভা করার পিছনে প্রধান উদ্দেশ্য হল, নিজেদের বক্তব্য জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা। ইতিমধ্যেই আমাদের নেতারা প্রচুর জনসভা করে বঙ্গবাসীর কাছে বিজেপির বক্তব্য তুলে ধরেছেন। বাংলার নাগরিকরা তা বুঝেও গিয়েছেন। সময়ের প্রয়োজনে এবার তাই আমরা রোড শো’র দিকে ঝুঁকছি। এর ফলে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষের কাছাকাছি যাওয়া যায়। খুব কম করে হলেও জনসভায় অন্ততপক্ষে ৫০-৬০ হাজার মানুষের কাছে তো আমরা যাচ্ছিই”। তবে কী প্রধানমন্ত্রীকেও রোড শো করতে দেখা যেতে পারে? সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে নাড্ডা বললেন, “না না, উনি জনসভাই করবেন। রোড শো করব আমরা বাকিরা”। অবশ্য অমিত শাহ বা তিনি যে জনসভা আর করবেনই না, তেমন নয়। তবে কম। বাড়ানো হবে রোড শো-র সংখ্যা। কিন্তু এই পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন হতে পারে, যদি এর মাঝে নতুন করে কোনও বড় ইস্যু তৈরি হয় রাজ্যে।
বঙ্গে এবার পদ্ম ফুটবে নাকি জোড়াফুলই আসনে বসবে, তা তো সময়ের অপেক্ষা। ২রা মে-তেই দেখা যাবে তা। তবে এর আগে ভোট প্রচারে কোনও খামতি রাখছেন না কোনও দলের নেতা-নেত্রীরাই। তবে অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে যে, গেরুয়া শিবির নিশ্চিত যে তাঁরাই এবারে ক্ষমতায় আসছে।





