দলবদল, হুমকি চিঠি সরগরম বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আসর। রাজনীতির অদ্ভুত মজা এখানে সময় সুযোগ বুঝে নিজের সুবিধামতো ঝটপট দলবদল করা যায়। আর তাই ব্যাকফুটে চলে যাওয়া তৃণমূল থেকে নাগাড়ে লোকজন ঢুকেছে বিজেপিতে। আর এই দলেই পড়েন নদিয়ার শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য।
আর এবার নিজ গড় শান্তিপুরেই হুমকি পোস্টার পড়ছে তাঁর নাম করে। যেখানে লেখা তাঁকে সাতদিনের মধ্যে শান্তিপুর ছাড়তে হবে। আর তাই নাহলে নিজের খুনের দায় নিজেকেই নিতে হবে। শান্তিপুরের তৃণমূলত্যাগী বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে খুনের হুমকি দিয়ে দেওয়াল লিখন তাঁরই নির্বাচনী এলাকায়। ঘটনার পিছনে তৃণমূলের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ অরিন্দম ভট্টাচার্যের।
এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে বলে জানিয়ে পাল্টা দাবি করেছে তৃণমূল। পোস্টারে লেখা, ‘আগামী ৭ দিনের মধ্যে অরিন্দম ভট্টাচার্য তুমি শান্তিপুর ছাড়ো, না হলে তোমার খুনের দায় তুমি নিজে ৷’
শুক্রবার সকালে এ ধরনের দেওয়াল লিখন চোখে পড়তেই শোরগোল পড়ে যায় শান্তিপুরে। শান্তিপুর পুরসভার বাগদেবীপুর ও করমচাপুর এলাকায় এই দেওয়াল লিখনে নিশানা করা হয়েছে, কংগ্রেস ছেড়ে প্রথমে তৃণমূলে এবং সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্যকে!
শান্তিপুর পুরসভার তিনটি ওয়ার্ডে দেওয়া ওই পোস্টারগুলিতে লেখা হয় —‘পাপটা বিদেয় হয়েছে ৷ তৃণমূল কংগ্রেস জিতেই গেছে ৷ বাকি শুধু আবির খেলা ৷ অরিন্দম শান্তিপুর ছেড়ে পালা।’
কোনও পোস্টারে আবার লেখা ছিল —‘দমবন্ধ করা শান্তিপুর আজ অভিশাপ মুক্ত!’ পোস্টার আক্রমণের তিনদিনের মাথায় এবার খুনের হুমকি দিয়ে দেওয়াল লিখন। এই ঘটনায় তৃণমূলকে দায়ী করেছেন সদ্য দলত্যাগী অরিন্দম। এই ব্যাপারে অরিন্দম ভট্টাচার্য নিজে জানান, “এর আগেও আমার নামে পোস্টার পড়েছে। এবার খুনের হুমকি দেওয়া হল। যাঁরা এই চ্যালেঞ্জ দিলেন, তাঁদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম। আমি শান্তিপুর ছেড়ে কোথাও যাব না। শাসকদলের তরফ থেকে এই ঘৃণ্য কাজ করা হয়েছে ৷”
তবে তৃণমূলত্যাগী নেতার এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দুই নির্বাচনের মধ্যে দু-বার দল পরিবর্তন করেছেন অরিন্দম ভট্টাচার্য। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও বামজোটের প্রার্থী হিসেবে; শান্তিপুর থেকে লড়াই করেছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী অরিন্দম ভট্টাচার্য। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অজয় দে’কে ১৯ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে জয়ী হন তিনি। এরপর ২০১৭-র ২১শে এপ্রিল; তিনি তৃণমূলে যোগদান করেন। আর এবার ১৯ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলবদলে পটু এই নেতা এবার বিজেপিতে।





