‘আমাদের মা মমতাময়ী, দুষ্টু লোককেই চায়’, মন্ত্রীর সঙ্গে কালীঘাটে গেল মহিষাসুর, ফের তৃণমূলকে শানিয়ে কবিতা রুদ্রনীলের

পুজো শেষ। আর পুজোর শেষ লগ্নে এসে ফের একবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর কথায়, মণ্ডপ থেকে পালিয়েছে মহিষাসুর আর তাও আবার তৃণমূল মন্ত্রী-নেতাদের হাত ধরে। গন্তব্য কালীঘাট। নানান দুর্নীতি নিয়ে বিঁধতে গিয়েই এবার রুদ্রনীলের নতুন কবিতা ‘চোরাসুর’।

রুদ্রনীলের কবিতা অনুযায়ী, এই বছর মণ্ডপে নাকি মা দুর্গা খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন। রাজ্যে যা যা বিঘ্ন ঘটছে, তাতে যদি দুর্নীতিগ্রস্ত কেউ মায়ের কাছে এসে আশীর্বাদ চান, আর মা যদি সেই আশীর্বাদ করে দেন, তাহলে যে রাজ্যে আরও দুর্নীতি বাড়বে, তা নিয়েই নাকি বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন মা দুর্গা। রাজ্যের নানান দুর্নীতি প্রসঙ্গে এভাবেই সরকারকে বিঁধেছেন রুদ্রনীল।

তাঁর কথায়, মা দুর্গার ছেলেমেয়েরা তাঁর কাছে নানান অভিযোগ জানিয়েছেন। রুদ্রনীলের কথায়, “চার ছেলেমেয়ে জানিয়েছে মাকে চোরের অভিনবত্ব। লক্ষ্মী জানায় ৫০০ টাকায় তাঁর নামে ভান্ডার। মা, মাসিমাকে উল্টো বুঝিয়ে চোর মারে গন্ডায়। শিক্ষা চুরির কাহিনি জানিয়ে কেঁদে ফেলে সরস্বতী, টাকার লোভেতে কীভাবে চোরেরা করে সমাজের ক্ষতি। আবাস চুরির ঘটনাটা নিয়ে কার্তিক রেগে লাল, গণেশ জানায় সিদ্ধি দেবে না কাউকে সে আর লাল”।

একথা শুনে খুবই কষ্ট পান মা দুর্গা। তবে তাঁর কষ্টের আড়ালে হাসি ফোটে মহিষাসুরের মুখে। রুদ্রনীল বলছেন, “আড়ি পেতে শুনে দুর্গার ব্যথা হাসল মহিষাসুর, প্ল্যান কষে ফেলে মর্ত্যে থাকার স্বর্গে যাব না দূর। এতদিন ধরে এমনই জায়গা খুঁজেছিনু সারা বিশ্বে, এত রকমের বিচিত্র চোরে, বুঝিনি বাংলা শীর্ষে”।

কবিতা অনুযায়ী, মহিষাসুর ভাবেন তিনি এবার বাংলাতেই থাকবেন আর এই দুর্নীতিতে যোগ দেবেন। কিন্তু তার আগে লাগবে এজেন্ট (পড়ুন তৃণমূল নেতা)। মণ্ডপে যখন মহিষাসুরের কাছে মন্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলেন এই এজেন্টরা। সেই এজেন্টরা নাকি মহিষাসুরকে বলেন, “কী হবে স্বর্গে ফিরে গিয়ে তোর? রোজ কেন খাবি মার? ওরে থেকে যা, এখানে লুটেপুটে খা, আমাদেরই সরকার”।

এরপরই মমতাকে শানিয়ে রুদ্রনীল বলেন, “পুলিশ তোকেই স্যালুট করবে কেউ ছুঁতে যাবে না, দুর্গার মতো ত্রিশূল না ছুঁড়ে বীর বলে দেবে মা। আমাদের মা ‘মমতা’ময়ী দুষ্টু ছেলেই খোঁজে, আইন আদালত মানে না যারা, মা তাদের মনকে বোঝে”।

রুদ্রনীলের কথায়, এমন কথা শুনেই নাকি মহিষাসুরের চোখে জল চলে আসে। তখনই নাকি মহিষাসুর এজেন্টকে জড়িয়ে ধরে বলে “কালীঘাট নিয়ে চল”।

নিজের এই কবিতার শেষে রুদ্রনীল এও বলেছেন যে এমনটা দিনের পর দিন চলতে থাকে, তাহলে রাজ্য চোরাসুরেই ভরে যাবে। তিনি এও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এমন চললে আসছে বছর সব নয়ছয় হবে ‘কেয়ার অফ কালীঘাট’।

প্রসঙ্গত, এটাই প্রথমবার নয়। এর আগেও রাজ্যের দুর্নীতি নিয়ে নানান সময় এমন কবিতা বলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন রুদ্রনীল। এবার তিনি রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীদের মহিষাসুরের বন্ধু বলে দাগলেন। তাঁর এই কবিতা এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

RELATED Articles