একুশের নির্বাচনে বিজেপির তরফে শালতোড়া থেকে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন চন্দনা বাউরি। এবারের ভোটে সবথেকে দরিদ্র প্রার্থী ছিলেন তিনি। দিনমজুরের স্ত্রী চন্দনা বাউরিকে দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। সকলের নজর কাড়েন তিনি।
ভোটে আগে মানুষকে সেবা করার পণ নিয়েছিলেন তিনি। ভোটে অন্যান্য তাবড় তাবড় বিজেপি নেতারা যখন মুখ থুবড়ে পড়েন, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে চন্দনা বাউরি বিজেপির হয়ে জিত হাসিল করে আনেন। স্বপ্ন দেখেছিলেন নিজের সংসার ও এলাকার মানুষদের নিয়ে সুন্দর জীবন কাটাবেন।
আরও পড়ুন- ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের, সতর্ক প্রতিক্রিয়া দিল তৃণমূল
কিন্তু ভাগ্যের ফের, মানুষ ভাবে এক আর হয় আর এক। স্থানীয় সূত্রের খবর, বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই চন্দনার জীবনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের গাড়ির চালক কৃষ্ণ কুণ্ডুর সঙ্গে তিনি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে খবর।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, গতকাল, বুধবার রাতে স্বামী-সন্তানকে ছেড়ে পো গাড়িচালক কৃষ্ণের সঙ্গে লুকিয়ে বিয়ে করেন চন্দনা। তাদের একসঙ্গে সেই ছবি এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। এই কথা কোনওভাবে কানে যায় চন্দনার প্রথম স্বামীর।
তিনি তখন কী করবেন বুঝে উঠতে না পেরে গঙ্গাজলঘাঁটি থানায় যান। তবে কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি তিনি। এরপরই চন্দনা ও কৃষ্ণের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। তাদের ডেকে পাঠানো হলে নবদম্পতি আজ, বৃহস্পতিবার পুলিশ স্টেশনে পৌঁছয়। সেখানে কৃষ্ণের স্ত্রীও ছিলেন। জানা গিয়েছে, এরপর চন্দনাকে তাঁর প্রথম স্বামীর সঙ্গে বাড়ি ফেরত পাঠায় পুলিশ।
আরও পড়ুন- তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট, দলের নেতাকেই প্রকাশ্যে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দলীয় কর্মীদের
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিধায়কের বিরুদ্ধে দলের নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। নিজেদের প্রিয় বিধায়কের এমন আচরণ মেনে নিতে পারছেন না কেউই। তবে চন্দনার দাবী, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে তাঁর দাবী। যদিও বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলেই জানা গিয়েছে।





