রাজ্য বিজেপির অন্দরে যেন বিতর্ক থামতেই চাইছে না। এবার বিজেপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন খড়গপুরের বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। আজ, বুধবার সকালেই এই খবর মিলেছে। অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায় একুশের নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। বিধানসভা ভোটে খড়গপুর থেকে জিতেছিলেন তিনি। তবে সম্প্রতি তাঁর বিধানসভা এলাকার একাংশের সঙ্গে তাঁর মতানৈক্য হয় বলে জানা যায়।
এই বিষয়ে হিরণের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, বাস্তবিকই হিরণ বিজেপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়েছেন। তবে হিরণের এই ক্ষোভ সাময়িক কী না বা ফের তিনি নিজের পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে যাবেন কী না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, তৃণমূলে থাকার সময় যুব তৃণমূলের হয়ে ভালো কাজ করেছেন হিরণ। তৎকালীন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক বেশ ভালোই ছিল। তবে পরবর্তীতে সেই সমীকরণে কিছুটা ব্যাখাত ঘটে। যার জেরেই তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন বলে হিরণের ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর মিলেছিল।
প্রথমবারের জন্য বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে লড়েছিলেন হিরণ। খড়গপুরে তৃণমূলের প্রভাবশালী প্রার্থীকে হারিয়ে বিধায়ক হন তিনি। কিন্তু নির্বাচনের পর স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে দ্বিমত তৈরি হয় হিরণের। এর জেরেই তিনি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়লেন কী না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই মতুয়া নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর-সহ বিজেপির মতুয়া বিধায়কেরা হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়েছেন। এর পাশাপাশি শান্তনু স্পষ্ট ভাষায় টুইট করে জানান যে তাঁর এবং বিজেপির পরস্পরকে আর প্রয়োজন নেই।
অসমর্থিত সূত্রের খবর অনুযায়ী, শান্তনু-সহ মতুয়া বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলেছেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডা। কিন্তু এরপর যে তাদের ক্ষোভের প্রশমন হয়েছে, এমন কোনও খবর নেই। এমন পরিস্থিতিতে এবার বিজেপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়লেন হিরণ, যা গেরুয়া শিবিরকে যে বেশ অস্বস্তিতেই ফেলে দিল তা বলাই বাহুল্য।





