‘নির্দল হিসেবে ভোটে লড়ব আমি’, লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই বিস্ফোরক উত্তরবঙ্গের বিজেপি বিধায়ক, অস্বস্তিতে দল

সামনেই লোকসভা নির্বাচন। এই মুহূর্তে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেই প্রস্তুতি তুঙ্গে। কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ। চলছে প্রার্থী বাছাই। আগামী মাসের প্রথমের দিকেই ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এমন আবহে এবার বেসুরো বিজেপির এক হেভিওয়েট বিধায়ক। নির্দলের হয়ে ভোটে লড়ার দাবী জানালেন তিনি।

ভোটের আগেই বিদ্রোহী উত্তরবঙ্গের বিজেপি বিধায়ক। আলাদা রাজ্যের দাবী নিয়েই ভোটে নির্দলের হয়ে লড়ার কথা জানালেন তিনি। তাঁর কথায় রাজু বিস্তা বা শ্রীংলা বহিরাগত। তাদের আক্রমণ শানালেন বিধায়ক। ভোটের মুখেই আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা গেল কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মাকে।

‘নির্দল হিসেবে ভোটে লড়ব আমি’, লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই বিস্ফোরক উত্তরবঙ্গের বিজেপি বিধায়ক, অস্বস্তিতে দল

কী বললেন বিজেপি বিধায়ক?

বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার কথায়, “দিল্লির নেতারা প্রার্থী হয়ে জিতে সাংসদ হয়ে পাহাড়ে আলাদা রাজ্যের দাবী ভুলে যান। এবার ফের রাজু বিস্তা বা হর্ষবর্ধন শ্রীংলা বিজেপি প্রার্থী হলে ভূমিপুত্র হিসেবে আমি নির্দল প্রতীকে লড়ব। ওদের মনোনয়নের আধা ঘণ্টার মধ্যেই নিজের মনোনয়ন জমা দেব”।

শুধু তাই-ই নয়, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধেও এদিন ক্ষোভ জারি করেছেন বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। তাঁর দাবী, আলাদ রাজ্যের লক্ষ্য নিয়ে সুকান্ত মজুমদার মিথ্যাচার করছেন। তিনি বলেন, “আমাকে একঘরে করার চেষ্টা করছেন। আমি উত্তরবঙ্গ জুড়ে বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করছি। তাঁরাও সঙ্গে আছেন। বিজেপি বিধায়ক হলেও লক্ষ্যপূরণে বিজেপির বহিরাগত প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়ব নির্দল হয়ে। সিদ্ধান্ত নিশ্চিত”। তাঁর প্রশ্ন, জেলায় তো ১৬ লক্ষ মানুষ রয়েছে। তাদের মধ্যে কাউকে কেন প্রার্থী করা হবে না? কেউ কী যোগ্য নয়? বাইরের লোক এনে কেন এখানে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে তোপ দাগেন তিনি।

তিনি এও বলেন, “রাজ্য সভাপতি আমাকে একঘরে করছেন এসব বলার জন্য। অথচ ওর জেলার বিধায়কেরা আমার সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করছেন। উত্তরবঙ্গ জুড়েই বহু দলীয় বিধায়কের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে”।

বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার দাবী, “স্থানীয় প্রার্থী না পেলে লড়াই করব ভোটে। পাহাড়ে বিজেপির ভোট আমার ঝুলিতেই যাবে। সমতলে রাজবংশী ভোটও আমরাই পাব। আমি ছাড়াও অনেকেই এভাবে নির্দল লড়তে পারেন। লক্ষ্য কোচবিহার থেকে মালদহ আলাদা রাজ্য”। 

RELATED Articles