ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়। শিক্ষার ক্ষেত্রে বয়স যে কোনও বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, তা ফের প্রমাণ করলেন তিনি। ছোটোবেলায় বাবার মৃত্যু হওয়ায় ইচ্ছা থাকলেও আর পড়াশোনা করতে পারেণ নি। সেই কারণে এবার সুযোগ পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাটা দিয়েই দিলেন বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদার। রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দেন তিনি।
বনগাঁর সাতভাই কালীতলার কালীতলা বিশ্ববন্ধু শিক্ষা নিকেতন হাইস্কুলে পরীক্ষায় বসেছিলেন স্বপন মজুমদার। গতকাল, বুধবার এডুকেশন পরীক্ষা ছিল। গত বছর তিনটি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। চলতি বছর দুটি পরীক্ষা বাকি ছিল।
কী জানালেন বিধায়ক?
স্বপন মজুমদারের কথায়, “আমি বাস্তব শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চাই৷ কাটমানির শিক্ষা বা তোলাবাজির শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চাই না। ছোটবেলায় বাবার মৃত্যুর কারণে খুব বেশি পড়াশোনা করতে পারিনি৷ তবে ক্লাসে প্রথম হতাম৷ পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষিত হওয়ার স্বপ্নপূরণ করতে পরীক্ষা দিচ্ছি৷ পড়াশোনার কোনও বয়স হয় না৷ মাধ্যমিক আগেই দিয়েছি। এবার উচ্চমাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিচ্ছি”৷
এদিন বিধায়কের পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে ভিড় জমিয়েছিলেন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় স্বপন মজুমদারের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। নির্বাচনের সময় তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতার যে সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন, তা ভুয়ো বলে দাবী করেছিল শাসক দল তৃণমূল। তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থও হয় ঘাসফুল শিবির। সেই বিতর্কের মধ্যেই এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসলেন বিজেপি বিধায়ক।
এই ঘটনায় কটাক্ষ তৃণমূলের
বিজেপি বিধায়কের এই ঘটনায় আবার কটাক্ষও করেছে তৃণমূল। বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ বলেন, “বনগাঁর মানুষ হিসেবে আমরা লজ্জিত যে একজন জাল সার্টিফিকেট নিয়ে শিক্ষিত হতে চাইছে। এটা একমাত্র বিজেপিতেই সম্ভব। এটা নিয়ে এখনও আদালতে মামলা চলছে। কীভাবে উনি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার অ্যাডমিট কার্ড পেলেন? আমরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বিরুদ্ধে ইডি, সিবিআই ও রাজ্য সরকারের মাধ্যমে তদন্তের আশা করছি”।





