আয়লার জন্য যে ক্ষতিপূরণ পাঠিয়েছিল কেন্দ্র তার মধ্যে কয়েকশো কোটি টাকার হিসাব এখনও দেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাকে শীঘ্রই এই টাকার হিসাব দিতে হবে বলে দাবি করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, গত ১০ বছরে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য রাজ্য সরকারকে ৩,০৮৬ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
এদিন দিলীপবাবু বলেন, ‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী টাকা দিয়ে শুরু করেন, টাকা দিয়ে শেষ করেন, টাকা নেই বলেন, নতুন নতুন হিসাব দেন। তাই আমরা কেন্দ্রীয় সরকার বিপর্যয় মোকাবিলায় কত টাকা দিয়েছে তার একটা হিসাব দেখছিলাম।’ সেখানেই তিনি হিসাব করে দেখেছেন, ‘আয়লার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ১,৩৩৯ কোটি টাকা দিয়েছে। মাত্র ৫২৫ কোটি টাকার ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট এসেছে, বাকি ৮১৪ কোটি টাকার কোনও হিসাব নেই।’ এই ৮১৪ কোটি টাকার হিসাব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জলদি দিতেই হবে বলে দাবি করেছেন দিলীপবাবু।
এছাড়া রাজ্য সরকার আরও টাকা পেয়েছে বলে দাবি করেন দিলীপবাবু। বলেন, ‘বুলবুলে ৫৭৯.৬ কোটি টাকা এসেছে। বন্যা প্রতিরোধের জন্য ৩৬৫ কোটি টাকা কেন্দ্র দিয়েছে। কেলেঘাই-কপালেশ্বরী নদী সংস্কারের জন্য ৩২৫ কোটি টাকা এসেছিল। কী লাভ হল ৩২৫ কোটি টাকা খরচ করে সেটা ওনারা আর মানসবাবু বলতে পারবেন। কান্দি মাস্টার প্ল্যানের জন্য ৩২৯ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে নদী সংস্কারের জন্য ৩,০৮৬ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে দিয়েছে।’
এরপর তিনি ফের তোপ দাগেন রাজ্যের শাসকদলের দিকে, যে সুন্দরবনের এই পরিস্থিতি পরোক্ষভাবে “তৃণমূল-মেইড”। তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ কেটে ভেড়ি তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে বাঁধগুলি দুর্বল হচ্ছে। আমরা জানি, ম্যানগ্রোভ ঝড় ও জলকে প্রতিরোধ করে। তাই ম্যানগ্রোভ কেটে ফেলায় বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। আর এই কাজে মূলত যুক্ত শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা।’





