২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গ দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি। বঙ্গের সব আসনে নজর রয়েছে গেরুয়া শিবিরের, ক্ষমতা দখলের জোর লড়াই চলছে তৃণমূলের সঙ্গে। তবে পদ্ম শিবিরের নজর রয়েছে মেদিনীপুরের দিকে। সেখানে রয়েছে মোট ৩৫ টি আসন। সেই লড়াইয়ে তৃণমূলকে হারাতে চাইছে বিজেপি। জয়ের জন্য তৈরি করছে কৌশল, ছক কষছে। সেই সঙ্গে নজরে রয়েছে নন্দীগ্রাম। বঙ্গ রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফের নন্দীগ্রাম।
ইতিহাস ঘাঁটলে নন্দীগ্রাম থেকেই পালাবদল হয়েছিল বঙ্গ রাজনীতির। দশবছর পর একুশের নন্দীগ্রামই ভোটের ফলাফল নির্ণায়ক কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ নন্দীগ্রাম থেকে একুশের প্রার্থী খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চলতি বছরে ১৮ জানুয়ারি নন্দীগ্রামের সভা থেকেই নিজের পুরোনো রণভূমির প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মার্চে ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হতেই পাকাপাকি ভাবে নন্দীগ্রাম থেকে লড়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যবাসী নন্দীগ্রামেই দেখবে একদা মমতার বিশ্বস্ত সৈনিক শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর শ্বাসরুদ্ধ লড়াই।
আরও পড়ুন: এবার মমতার থেকে মুখ ফেরাতে পারেন বাঁকুড়ার বিদায়ী বিধায়ক! বিজেপি যোগের সম্ভাবনা
মেদিনীপুর দখল নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, “এখন ওখানে ভোট রয়েছে। তাই ওখানে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। গোটা রাজ্যেই এমন জোর দেওয়া হবে প্রচারে। রাজ্যের সব জেলাতেই যাবেন মোদী’জি। বারবার আসবেন অমিতজি, নাড্ডাজি, যোগীজি। আরও অনেকে।” জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ায় ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু’টি সভা করবেন মেদিনীপুরে। দুটি সভা রয়েছে খড়্গপুর ও কাঁথিতে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ খড়গপুরে রোড শো করবেন ১৫ মার্চ। নন্দীগ্রামে গিয়েও একটি সমাবেশ করার কথা রয়েছে অমিত শাহের। তবে দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে এ বার অমিতের সফর মেদিনীপুরের জন্য উল্লেখযোগ্য। মেদিনীপুরে আসছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও। তেখালিতে যে মাঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করেন সেখানেই সভা করবেন যোগী। সব মিলিয়ে যে মেদিনীপুরে একটু বেশিই নজর দিচ্ছে বিরোধী দল বিজেপি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।





